লিয়াকতসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে মামলা

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে এবার নিজ জেলা চট্টগ্রামে মামলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে এসআই থাকা কালীন সময়েই এক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে ২০১৪ সালে দাউদকান্দি থানায় দায়িত্বরত দুই এসআই ও চট্টগ্রামের চারজন ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে।
৬ বছর পর বুধবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে মামলাটি করেন জসিমউদ্দিন নামের একজন ব্যবসায়ী। জসিম উদ্দিন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সদস্য। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিষয়য়টি নিশ্চিত করেন বাদী জসিম উদ্দিন নিজেই।
এসআই লিয়াকত আলী ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- দাউদকান্দি থানার সাবেক এসআই ও বর্তমানে সাতকানিয়া থানার এস আই নজরুল, দাউদকান্দি থানার সাবেক এস আই হান্নান,ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান, বিসনুপদ পালিত, কাজল কান্তি বৈদ্য ও এস এম সাহাবউদ্দিন।
টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাসেদ খান নিহতের ঘটনায় বর্তমানে কারাগারে আছেন এসআই থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এই ঘটনার পরই দীর্ঘ ৬ বছর পর এসে মামলাটি করা হয়।
মামলার এজহারে জমিউদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০১৪ সালের ১৪ জুন ব্যবসায়ী জসিমউদ্দিনকে একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে আসেন তৎকালীন এস আই লিয়াকত। পরে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা দেয়ার পরও ব্যবসায়ী জসিমকে একটি চুরির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদী জসিম উদ্দিন জানান, তিনি বর্তমান উখিয়া থানার ওসি মর্জিনা বেগম, খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী, পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার নাথ ও তৎকালীন নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলাটি করেন। আদালত বরখাস্তকৃত লিয়াকত আলী, দাউদকান্দির ২ এসআই ও চারজন ব্যবসায়ীকে রেখে বাকীদের মামলা থেকে বাদ দিয়ে দেন এবং নগর গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: