সিনহা হত্যা মামলায় পরিস্কার তথ্যচিত্র মিলেছে: র‌্যাব

সিনহা হত্যা মামলায় পরিস্কার তথ্যচিত্র পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা; সংবাদ সম্মেলনে জানালো র‌্যাব।
বুধবার র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিক বিল্লাহ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, নীলীমা রিসোর্ট থেকে জব্দ করা ২৯ টি আলামত রামু থানা থেকে বৃহস্পতিবার গ্রহণ করা হবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ নানান ঘটনা বিশ্লেষণ করে মেজর অবসরপ্রাপ্ত সিনহা রাশেদ খান হত্যার পুরো তথ্যচিত্র পাওয়া গেছে। তদন্ত সংস্থা র‌্যাব বলছে নীলিমা রিসোর্ট থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ ডিভাইসসহ ২৯ টি আলামতও বৃহস্পতিবার রামু থানা পুলিশ- তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে। এদিকে রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার চার পুলিশসহ ৭ জনকে হাজির করা হচ্ছে আদালতে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই সিনহার সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাসকিন কক্সবাজার যান ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে। গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিষবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।
৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলা হয়। একটি মামলায় হয় টেকনাফ থানায়। এই মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলার আসামি করা হয় সিফাতকে। আর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় আসামি করা হয় শিপ্রা দেবনাথকে।
৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন বাদী হয়ে একই আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, থানার এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরের দিন বিকেলে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত, এসআই নন্দলাল রক্ষিতসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। একই আদালত র‌্যাবের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দলাল রক্ষিতকে সাত দিনের রিমান্ড এবং অপর চার আসামি কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও এসআই লিটনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। অপর দুই আসামি এসআই টুটুল ও মো. মোস্তফা আদালতে হাজির হননি। পুলিশের দাবি, এই নামে জেলা পুলিশে কেউ নেই।
এরপর মামলার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে কারাগার থেকে নিয়ে যায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।
সাত আসামির মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া। অন্য আসামিরা পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী। তাঁরা হলেন টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. আইয়াস, নুরুল আমিন ও নাজিম উদ্দিন।
-পূর্বপশ্চিমবিডি

Leave a Reply

%d bloggers like this: