স্থানীয় নির্বাচনঃ প্রধানমন্ত্রী বরাবর ছাত্রলীগ নেতার খোলা চিঠি

বরাবরে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

প্রসঙ্গ: স্থানীয় নির্বাচনের হালচাল।
ভালবাসার নৌকা প্রতীক আমাদের আবেগের প্রতীক।
স্থানীয় নির্বাচনে কিছু খারাপ লোকদের কাজ কর্মের কারনে নৌকা প্রতীক এর ভালবাসা দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে, স্থানীয় নির্বাচনে ভাল লোক আছে, তার চাইতে খারাপ লোকের সংখ্যা বেশি, গত নির্বাচনে বেশ কিছু খারাপ লোকের হাতে নৌকা মার্কা চলে আসে,তারা এলাকায় কাজ না করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য নেতার পিছন পিছন ঘুরে ৪, ৫টা বছর নষ্ট করে।প্রতীক এর কারনে অনেক সময় অনেক ভাল ত্যাগি মানুষ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারে না, নির্বাচন একটা প্রতিযোগিতা, সব প্রতিযোগিতায় দক্ষ লোক না হলে পরাজয় নিচ্ছিত।ভাল লোক কেন যানি কক্সবাজার জেলায় নাই বটে,
লেং ঘোড়া নিয়ে রেইজ করতে করতে আমরা ক্লান্ত, আমাদের ভালবাসার নৌকা শব্দটা দিন দিন সাধারন মানুষের বিরক্তির কারন হচ্ছে,কারন এক টায় স্থানীয় নির্বাচনে শুধু ভুল মানুষ নির্ধারণে। সব দোষে দোষী ব্যক্তিরা যারা জনগনের ভোটে জয়ী,যারা জয় হওয়ার পরে জনগনের কথা রাখে না,উন্নয়ন কে বাঁধাগ্রস্ত করে, উন্নয়ন এর অর্থ থেকে টাকা মেরে খাই।
দিন শেষে ২ চার জন খারাপ মানুষ এর জন্য নৌকা মার্কা শব্দ টাকে সবাই গাল মন্দ করে।যারা নৌকা মার্কা প্রতীক বরাদ্দে স্থানীয় নির্বাচনে লোক নিবাচন দেওয়ার দ্বায়িত্ব থাকেন, তাদেরও সটিক ভাবে তথ্য জানা প্রয়োজন,যাদের দিচ্ছেন তারা কি জন গনের চাহিদা পূরন করতে পারবেন। নাকি,৫ বছর শেষ না হতে,সরকারি চাউল,ডাল,রেশম, বিধবা ভাতার টাকা, রাস্তা-ঘাট এর বরাদ্দ, টাকা মেরে খেয়ে
নিজেদের বিত্তশালী লোক বানাতে ব্যস্থ হয়ে উঠেন, ধরেন একটা লোক কে আপনারা প্রতিক বরাদ্দ দিয়ে পাঠায় দিলেন, সে যে দলের লোক সে দলের সবাইকে বলে দিলেন লোকটাকে জয় করতে হবে, তার কোন গ্রহন যোগ্যতা না থাকায় লোক জন ভোট দিচ্ছে না, তখন আমরা যারা তৃণমূলে আছি তারা সবাই ভালবাসার প্রতীক হারবে বলে ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোট ছিড়তে শুরু করি, এতে জনগণের ভোট অধিকার নষ্ট করি, নির্বাচনকে প্রশ্নবৃদ্ধ করি, জনগরে চোখে আমরা ৫ টা বছর খারাপ থেকে ভালবাসার প্রতীক কে জয়যুক্ত করি,জয় হওয়ার পরে আপনাদের পাঠানো মানুষের আসল চরিত্র জনগন দেখতে পাই, ৫ টা বছর নিজেরাও বলতে থাকি হাই রে হাই, হাই রে কি লোক কে জনগনের প্রতিনিধি বানালাম, শালা একটা মহা চোর,খারাপ লোক,তার চাইতে বড় কথা কোন কাজ না করে সরকারকে ও প্রশ্নবৃদ্ধ করে।সামনে যদি প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন জনগণের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়,তাহলে সাধারন জনগন মনের কথা তাদের চেয়ারম্যান দের বুঝাতে পারবে, ভাল মানুষ জনগনের অভিবাবক হয়ে দেশের চলমান উন্নয়ন এর হাত কে শক্তিশালী করতে পারবে। আর আমাদের লেং ঘোড়া নিয়ে রেইজ করা লাগবে না,কারো মুখে ভালবাসার প্রতীক এর জন্য গাল মন্দ কথা শুনতে হবে না।
এই সব কিছু লেখার কারন, কক্সবাজার জেলায় সব সময় পত্রিকার হেডলাইন দেখি নৌকার চেয়ারম্যান অমুক ইয়াবা নিয়ে জেলে, নৌকার চেয়ারম্যান অমুক নারী নির্যাতন করছে, নৌকার অমুক চেয়ারম্যান পাহাড় কেটে পরিবেশ নষ্ট করছে, নৌকার চেয়ারম্যান অমুক এর ইন্দনে অমুক মাডার।নৌকার চেয়ারম্যান অমুক এর ঘরে ১০০ বস্ত চাউল পাওয়া গেছে, নৌকার চেয়ারম্যান অমুক এর ইন্দনে সাধারণ লোকদের ইয়াবা দিয়ে ক্রস ফায়ার। দোষ করছে খারাপ ব্যক্তি রা নিউজে শিরোনাম হয় নৌকা বলে, সাধারন লোক জন আর বুঝতে চেষ্টা করে না দোষ কার। বলে বেড়াই নৌকার লোক জন এমনি হয়, তখন আমরা যারা তৃণমূলে নৌকার লোকজন আছি আমাদের বেশি খারাপ লাগে,তাই স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না দিলে আমরা তৃণমূল জনগন বেশি খুশি হব।নৌকা আমাদের শেষ আশ্রয়, যদিও বা সামনের স্থানীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় তার জন্য আগের মত কাজ করে যাব ইনশআল্লাহ।

প্রিন্স কফিলউদ্দিন সিকদার
সহ-সম্পাদক
কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: