ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল,কুমিল্লার সেই নেতাকে বহিষ্কার করেনি ছাত্রলীগ

কুমিল্লা উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন ফকিরের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও গত ১০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ সেসময় স্বীকার করেন, ‘মজা করে ইয়াবা টান দিয়েছিলাম, কিন্তু বন্ধুরা সেটি ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।’ অভিযুক্ত এ নেতাকে কারণ দর্শানোর নেটিশ দিলেও এখনও বহিষ্কার করেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
ভাইরাল সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ফরহাদ হোসেন ফকির বিছানায় বসে ইয়াবা সেবন করছেন। ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে তার সঙ্গে অন্য কাউকে দেখা যায়নি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়। এরপর ফরহাদ হোসেন ফকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ থেকে তিন বছর আগে বন্ধুরা মিলে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন মজা করে ইয়াবা কেমন সেটি জানার জন্য একটা টান দিয়েছি। তখন কে বা কারা ষড়যন্ত্র করে এটা ভিডিও করেছে। এখন আবার তা প্রকাশ করল। সত্যি এটা দুঃখজনক। আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরহাদ হোসেন ফকিরের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ৪ দিন পর ১৪ আগস্ট ফরহাদ হোসেন ফকিরকে কারণ দর্শানোর নেটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানে যাচ্ছে যে সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ায় ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখা) আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার উপযুক্ত কারণসহ লিখিত জবাব আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
তবে সেই তিনদিন পেরিয়ে বর্তমানে ২০ দিন হলেও ফরহাদ হোসেন ফকিরের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফরহাদ ফকির ধানমন্ডির একটি বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে আরেকজন ব্যক্তির রক্ত দিয়ে ভুয়া ডোপ টেস্ট করিয়েছেন। কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের একজন পদধারী নেতা এবং ফরহাদ ফকিরের ঘনিষ্ঠজনই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফরহাদ ফকিরের মতো একজন মাদকসেবীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় কুমিল্লা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়েছেন। তারা অনেকেই বলেছেন, ফরহাদের ঘটনার পর আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য কমপক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমপক্ষে ৩ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছেন। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল খান সানাকেও বহিষ্কার করেন জয়-লেখক। কিন্তু মাদকাসক্ত ফরহাদ ফকিরের বিষয়ে শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: