কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষায় ৮ নির্দেশনা

ঢাকা ও কাশিমপুর কারাগার থেকে দুই কারাবন্দি পালানোর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কারা প্রশাসন। নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কারা সদর দফতর থেকে আটটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামসহ দেশের ৬৮টি কারাগারে। নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সম্প্রতি আইজি প্রিজনস বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দেশের ৬৮টি কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কারা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।
আইজি প্রিজনসের পাঠানো চিঠিতে ৮টি করণীয় বিষয় উল্লেখ করে বলা হয়, ‘কারা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক নিয়মিত কেস টেবিল কার্যক্রম পরিচালনা করা, ফাইলে নিয়মিত অংশগ্রহণ, নৈশ পরিক্রমা, বন্দি দরবার সম্পন্ন করা, কারাগারে নিষিদ্ধ দ্রব্যের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, কারা অভ্যন্তরে গমনকারী পিআইইউ এর সদস্য এবং সিভিল কর্মচারীসহ সবাইকে যথানিয়মে তল্লাশিকরণ এবং সিসিটিভি মনিটরিং ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হলো।’
কোনও কারা কর্মকর্তা/কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম ব্যত্যয় বা শৈথিল্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয় ওই চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোনও কোনও কারাগারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, এমনকি বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে—যা চরম প্রশাসনিক দুর্বলতার নামান্তর এবং মোটেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারাগার একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান। বন্দি পলায়নসহ যে কোনও দুর্ঘটনা রোধকল্পে কারা কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা আবশ্যক।’
ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘কারা কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সক্রিয় না হওয়ায় বন্দি পলায়নসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে— যা সুষ্ঠু কারা প্রশাসনের অন্তরায় এবং কারা বিভাগের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। অতএব বন্দি পলায়নসহ যে কোনও দুর্ঘটনা রোধপূর্বক কারা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সবকারা কর্মকর্তা/কর্মচারীকে সর্বোচ্চ অধিক সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
কারা সূত্র জানায়, কারা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। একারণে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত জেলা ও কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে জুম মিটিং করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র সচিব (সুরক্ষা) মো. শহিদুজ্জামান এবং আইজি প্রিজনস দুই ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস), সিনিয়র জেল সুপার ও জেল সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: