জামায়াতের কাঁধে আল্লামা শফীর খাটিয়া; আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে!

দেশের শীর্ষ আলেম ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তার শেষ বিদায় জানানোর জন্য হাটহাজারীতে একত্রিত হয়েছিল। তাতে ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় জানাজায় পরিণত হয়েছে৷
এদিকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বায়তুল আতিক জামে মসজিদের সামনে তাকে দাফন করা হয়। আল্লামা আহমদ শফীর জানাজা শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এমনকি আহমদ শফীর মরদেহ বহনকারী খাটিয়া তাদের কাঁধে নিতে দেখা গেছে। তাদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠছে হেফাজতের নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কওমি অঙ্গনের ছাত্র-শিক্ষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শ্রেণির লোক প্রশংসা করলেও অনেকের অন্যান্য ইসলামী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে মওদুদীবাদী সমর্থকরা দেশের একজন শীর্ষ আলেমের খাটিয়া বহন কিভাবে করতে পারে?। এটাকে এক ধরনের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তারা। এদিকে ওই ঘটনায় শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ছেলে আল্লামা মামুনুল হক আল্লামা আহমদ শফীর জানাজা ও জামায়াত নেতার খাটিয়া বহন নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।
মামুনুল হক তার ফেসবুক স্ট্যাটসে বলেন, ‘জানাযা শেষে যখন খাটিয়া বহন করা হয় তখন অনেকেই এগিয়ে আসে খাটিয়া বহন করতে ৷ আমি খাটিয়ার বাঁ পাশে ছিলাম ৷ জামায়াতে ইসলামীর দু-চারজন লোক সেখানে দেখতে পাই, তারা আমার পাশ দিয়ে খাটিয়া ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অন্য প্রান্তে গিয়ে তাদের একজন খাটিয়ার হাতল স্পর্শ করে এবং ছবি তুলে ৷’
‘গতকাল থেকেই লক্ষ করলাম বিষয়টি নিয়ে কিছু কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে৷ এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, কারা জানাজার কাছে গেল কারা খাটিয়া বহন করল, এ বিষয়ের দায়-দায়িত্ব প্রথমত হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের, দ্বিতীয়ত শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহর পরিবার থেকে নির্ধারিত জানাজা ও দাফনসহ সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ১০ সদস্যের, তৃতীয়ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, চতুর্থত স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে নিয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ও কর্মীবৃন্দের ৷ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নিছক জানাযায় অংশগ্রহণকারী একজন ব্যক্তি হিসেবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া ছাড়া আর কী হতে পারে ?’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে অনেকে এ ঘটনায় নানা মন্তব্য করেন। মু. আব্বাস আলি খান নামে একজন লিখেন, ‘মৃত মানুষের খাটিয়া বহন করা নিয়েও যারা প্রশ্ন তুলতে পারে তারা আসলে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের উনপঞ্চাশতম বংশধর। বংশ পরম্পরায় যাদের কাজই হলো প্রকৃত মুসলিমদের পিছনে লেগে থাকা। এতে সাময়িক কিছু ফায়দা লুটতে পারলেও সবিশেষে ব্যর্থ হয়ে হিংসার আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হওয়াই এদের দো-জাহানের পরিণতি। ’
কমরেড মাহমুদ মাওলানা মামুনুল হকের স্ট্যাটাসকে নিয়ে মন্তব্য করেন, ‘আপনি কৈফিয়ত দিলেন কিসের? মনে হচ্ছে জামায়াতের লোকজন খাটিয়া ধরায় সেখানে উপস্থিত সবাই ইমান হারা হয়ে গেছে! পোস্ট দেখে ভেবেছিলাম বলবেন খাটিয়া ধরায় শরীয়ত বিরোধী হইছে কিনা সেই ব্যাপারে। ভাবলাম লিখেছেন অনেকে চর্মরোগীর মত আচরণ করছেন কেন সেই প্রশ্ন নিয়ে। আফসোস, তার কিছুই পেলাম না! আমাদের আলেম সমাজের কার্যকলাপ দেখে মাঝে মাঝেই বুকে কষ্ট অনুভব করি। ’
এম এ হান্নান মামুনুল হকের পোস্ট নিয়ে বলেন, ‘আপনার এবিষয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করতে নাপারাটা দুঃখজনক, আরো উদার হতে পারতেন, আপনি আর এক নক্ষত্র আল্লামা আজিজুল হক সাহেবের উত্তরসূরি। আপনার কথায় জাতীয় নেতৃত্বসুলভ শব্দচয়ন হয়নি। আপনার কথায় অজপরাগায়ের মৃতু মানুষের চল্লিশায় কুরআন খতম করে টাকা ভাগাভাগি করা মুন্সিদের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে!’

Leave a Reply

%d bloggers like this: