‘তিনি আমার শরীরের মাপ জানতে চান’, আয়নাবাজি পরিচালককে তরুণী

চলচ্চিত্র পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাজের বিনিময়ে যৌনতার প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ আনলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ‘আয়নাবাজি’ খ্যাত জনপ্রিয় এই পরিচালক।
বুধবার সুমাইয়া অনন্যা নামে ওই নারী শিক্ষার্থী এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে অমিতাভের বিরুদ্ধে কাজের পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে প্রডিউসারের সাথে যৌনতার প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
এরপরই অমিতাভ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে অভিযুক্ত আইডিটি তার নয় বলে জানান। ওই অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান। এসময় অমিতাভ বলেন, তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট বাদে তাকে আর কোনো অ্যাকাউন্টে পাওয়া যাবে না।
অমিতাভ জানান, এটি একটি ফেক অ্যাকাউন্ট, বহু আগে থেকেই এমন ফেক অ্যাকাউন্ট চালু আছে।
অভিযোগকারীর তার সাথে ভিডিও কলে কথা বলার দাবি করেছেন জানালে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে করা একটি লাইভ ভিডিও চালিয়ে বিভিন্ন সময় এমন কাজ করা হয়েছে। তার ভেরিফায়েড আইডি থেকেও কথা হয়েছে অভিযোগকারীর এমন দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটি মিথ্যা, আমার ফেসবুকে এমন কোনো রেকর্ড নেই।
পরবর্তীতে অভিযোগকারীকে আনফ্রেন্ড করা হয়েছে এমন দাবিকেও তিনি মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন। ফেক অ্যাকাউন্ট নিয়ে সাইবার ক্রাইমে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- এক বছর আগে আমি এগুলো নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। এখন আবার করতে হবে। অভিযুক্ত আইডিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম অনেকগুলো আইডি আছে।
তবে, অমিতাভের এমন দাবি মানতে নারাজ অভিযোগকারী ওই নারী। পাল্টা আরেক পোস্টে ওই নারী শিক্ষার্থী দাবি করেন, অমিতাভের ভেরিফাইড ও অভিযুক্ত অ্যাকাউন্ট দুটি থেকেই অমিতাভ তার সাথে কথা বলেছেন। অভিযুক্ত আইডিটি কোনোভাবেই অমিতাভের ফেইক আইডি না। এমনকি অমিতাভ অভিযুক্ত আইডি থেকে তার সাথে ভিডিও কলেও কথা বলেছেন।
এবার আরেক তরুণী অমিতাভের বিরুদ্ধে যৌনতার প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ আনলেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুকে শুভ্রা গোস্বামী নামের ওই তরুণী লিখেছেন, ‘দেশের একজন বড়সড় ডিরেক্টর কে নিয়ে নারীঘটিত কেলেংকারীর স্ক্রিনশট ভেসে বেড়াচ্ছে ফেইসবুকে। এবং তিনি সহ তার অনুসারীরা অকপটে অস্বীকার করছেন ব্যাপারগুলো। ফেইক আইডি বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আজ থেকে ২ বছর আগে তিনি যখন রিকশা গার্লের জন্য ক্যারেক্টার খুজছিলেন তখন তার আইডি থেকে আমার সাথে কথা হয়েছিল। তিনি একই ভাবে আমার শরীরের মাপ জানতে চেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন গিভ এন্ড টেক করতে চাই কিনা? আমি প্রথমে বুঝতে পারি নাই পরে তিনি বলেন আপনি যথেষ্ট বড় নিশ্চই বুঝতে পারছেন! তখন আমি তাকে লিখেছিলাম অভিনয় নিয়ে একাডেমিক্যালি পড়াশোনা করে সেই অভিনয় করবার জন্য এই ধরনের প্রস্তাব পেতে হবে কখনো ভাবিনি। আপনার কাজকে পছন্দ করতাম তবে এখন থেকে আপনাকে একজন নিম্নমানের মানুষ ছাড়া আর কিছুই ভাবা সম্ভব নয়। এর পরে তাকে ব্লক করে দেই। আমার সেই আইডি টি বাজেয়াপ্ত হবার কারনে স্ক্রিনশট গুলো আর নেই। সেই সময়ে আমার অফিসের সব কলিগকে সেটা দেখিয়েছিলাম। আজ যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বোনের স্ক্রিনশট দেখে নানান মানুষজন সেই ডিরেক্টরের পক্ষে কথা বলছে তখন মনে হল এই লোক সম্পর্কে আসলেই লেখা উচিত। শিল্প এবং যৌনতা ভিন্ন জিনিস। আগে সেটাকে আলাদা করতে শিখুন, নারীকে শ্রদ্ধা করতে জানেন না আবার আসছেন শিল্পী হতে! বাংলাদেশের টেলিভিশন বা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এখনো সি গ্রেডের মানুষদের হাতেই বন্দী।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: