দোহাজারি-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্প: পাহাড় কাটায় জরিমানা

দো

চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য পাহাড় কাটার অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। এছাড়া রেললাইন প্রকল্পের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহাড় কাটায় আরও ৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে শুনানি শেষে এসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন এই জরিমানা করেন।
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারি থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেল মন্ত্রণালয়। ওই প্রকল্পে মাটিভরাটের জন্য রামু বাইপাস, ঈদগাহ বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার প্রমাণ পায় পরিবেশ অধিদফতর। সংশ্লিষ্টরা জানান, রেললাইন বাস্তবায়নকারী মূল প্রতিষ্ঠান সিসিইসিসি ম্যাক্স কোম্পানির নিয়োগ করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পাহাড় কাটছে। তাদের দেখে ব্যক্তিগতভাবে এলাকার অনেকে পাহাড় কাটতে শুরু করেছে।
পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো আদিব ব্রাদার্স, বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, রিতাজ এন্টারপ্রাইজ, সিস স্টুডিও ও খান ট্রেডিং। তাদের ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহাড় কাটায় কক্সবাজার সদরে শামীম আহমেদকে ৬০ হাজার টাকা, উখিয়ার হেলাল উদ্দিন ও কাওসারকে ২ লাখ টাকা, রামুর আবদুল মালেককে ২০ হাজার টাকা ও বান্দরবান পৌর এলাকার দলীলুর রহমান ও চন্দন বড়ুয়াকে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, ‘প্রকল্পের শর্তে পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধ আছে। কিন্তু পাঁচটি প্রতিষ্ঠান পাহাড় কেটে মাটি ভরাট করছিল। তাদের দেখে এলাকার লোকজনও পাহাড় কাটতে শুরু করেন। সরেজমিনে পরিদর্শনের পর তাদের শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছিল। শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পাঁচটি জাহাজ ভাঙার কারখানাকেও জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছাড়পত্রের শর্তভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
এর মধ্যে সীতাকুণ্ডের আরেফিন ইয়ার্ডকে ১৫ হাজার টাকা, এস এইচ এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা, কিং স্টিলকে ১০ হাজার টাকা, এন বি স্টিলকে ১০ হাজার টাকা ও কে আর স্টিলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: