বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অবহেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি একটি স্পটেও !

(no subject)

পরিকল্পনা আছে কউকের 

আমিরুল ইসলাম মো:রাশেদ :: পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার । ১২০ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সমুদ্র সৈকতটি পুরোটাই বালুকাময়।একপাশে রয়েছে নীল জলরাশি আরেকপাশে রয়েছে পাহাড় বেষ্টিত সবুজের সমারোহ। বালিয়াড়ি সৈকত সংলগ্ন শামুক ঝিনুক নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল মোটেল কটেজ, নিত্য নব সাজে সজ্জিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার থাকে প্রাণচাঞ্চল্যে। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনায় প্রকৃতির দেয়া ওই সৈকতের অনেক কিছু হারিয়ে যেতে বসেছে।এতে করে ওইখাত থেকে বিপুল অংকের অর্থ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ ,পর্যটন মন্ত্রণালয় ও পর্যটন কর্পোরেশন বীচের প্রতি এতই অবিচার ও অবহেলা করেছে তা বলার মত নয়। দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে এ বীচে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি বীচ ম্যানেজ ম্যান্ট কমিটিও করছে বিমাতাসুলভ আচরণ।সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়,  সী-বীচের প্রবেশ পথে অসংখ্য ঝুঁপড়ি দোকান তৈরি করেছে অবৈধ জবরদখলকারীরা। বিভিন্ন পসারা সাজিয়ে বীচের প্রবেশ পথ দখল করে ঝুঁপড়ি দোকান তৈরি করায় পর্যটকদের যাতায়াতে প্রতিবন্ধিকতা সহ সৈকতের সৌন্দর্য্য ও বিনষ্ট হচ্ছে। এমনকি অনেক স্পটে নেই চেঞ্চিং রুমও। তাছাড়া জেলা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার কারণে অনেক স্পটে এখন পর্যটক যায় না। সুশীল সমাজের অভিমত বীচ ম্যানেজ ম্যান্ট কমিটির দায়িত্বহীনতার কারণে দিন দিন সী-বীচ অবৈধ জবরদখলকারীর হাতে চলে যাচ্ছে। 
সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের অভিমত পর্যটক কর্পোরেশন ও জেলা বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটি অবৈধ স্থাপনা ও ঝুঁপড়ির দোকান উচ্ছেদ করে বীচের সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা। এতে সরকার পর্যটক খাত থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে।ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা শরিফ বলেন, সাগরে থেকে উঠে পা ধোয়ার কোন ব্যব¯’া পর্যন্ত নেই। তার মতে, দেশ-বিদেশে পর্যটকদের কাছে সী-বীচ বেশ আকর্ষনীয় একটি পর্যটন স্পট। অথচ সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই উন্নয়নের প্রতি। এভাবে অবহেলা ও উন্নয়ন বিহীন অব¯’ায় পড়ে থাকলে পর্যটকদের কাছে  -বীচের খ্যাতি হারাবে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে ওই প্রতিবেদক বলেন, বীচ-ম্যানেজমেন্ট কমিটি প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করলেও এর আংশিক পরিমাণ অর্থও উন্নয়নের জন্য ব্যয় করা হয় না। এব্যাপারে জানতে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো:কামাল হোসেনের ফোনে কল করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে,সী বীচ কে নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যাপক পরিকল্পনা আছে বলে জানান কউকের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ এলডিএমসি পিএসসি।তিনি বলেন,ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে বীচে কাকড়া সংরক্ষনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু স্পটের উন্নয়নে তিনি পরিকল্পনা গ্রহন করেছেন। এজন্য দরিয়ানগরে কিছু জায়গা চাওয়া হয়েছে।এগুলো পেলেই পর্যটন শিল্পে বিকল্প সংযোজন করা হবে।তিনি আরও জানান,এরমধ্যে কলাতলী থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াতে সুবিধার্থে লাইটিং ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভ সড়কের পূর্বপাশে ১০ হাজার চারা রোপন করা হয়েছে।তবে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অধিনে বীচ থাকায় এখনো বীচ উন্নয়নে কোনো প্রকল্প হাতে নিতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: