সরকারের সমালোচনা করি বলেই মামলা : নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, তিনি যেহেতু বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন সেই কারণেই হয়তো তাঁকে হেয়-প্রতিপন্ন করতে এবং দমাতে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী। একই বাদী গত রোববার ডিএমপির লালবাগ থানায় একই আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা করেছিলেন। দুই মামলাতেই নুরকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার নুরুল হক নুর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘মামলার বাদী ওই মেয়ে আমাকে প্রায় আড়াই মাস আগে একবার ফোন করেছিলেন। তিনি ফোনে আমাকে বলেছিলেন, হাসান আল মামুনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক আছে। এখন তাদের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। বিয়ে করতে চাচ্ছেন না মামুন। যেহেতু মামুন আমাদের সংগঠনের নেতা সেহেতু বিষয়টি আমি যেন সমাধান করে দেই।’
‘আমি তখন তাঁকে বলি, বিষয়টা যেহেতু আপনাদের ব্যক্তিগত তাই নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমাধান করা উচিত। আর আপনি ঢাকাতে আসেন (করোনার কারণে তখন অভিযোগকারী গ্রামে ছিলেন) এটা নিয়ে আলোচনা করা যাবে। আর আমার স্থান থেকে কিছু করার থাকলে আমি অবশ্যই তা করব।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘মামলার এজাহারে বলা হলো, আমাকে জানানোর পর আমি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি। কিন্তু মামলার বাদী তো পরে আর আমাকে কখনো ফোন দেননি। এমনকি আমার সঙ্গে অন্য কোনোভাবে যোগাযোগেরও চেষ্টা করেননি। অথচ, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসা হলো ধর্ষণে সহায়তার। আমি নাকি তাঁকে হুমকি-ধমকিও দিয়েছি। অথচ বাদীর সঙ্গে পরে আমার আর কখনো দেখা কিংবা কথা হয়নি।’
কোনো মহলের মদদপুষ্ট হয়েই বাদী এই মামলা করেছেন বলে মনে করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি। এই ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতাও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে হেয় করা এবং আটকানোর জন্যই এই মামলা করা হয়েছে। আমি যেহেতু নানা সময়ে সরকারের সমালোচনা করি, তাই আমাকে কীভাবে দমানো যায়- এই ঘটনা সেটির বহিঃপ্রকাশ হতে পারে বলে আমার মনে হচ্ছে।’

লালবাগ থানার এই মামলাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে মৎস্য ভবনের সামনে থেকে নুরুল হক নুরসহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাঁকেসহ মোট সাতজনকে ছেড়ে দেয় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মুচলেকার ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল ডাকসু সাবেক ভিপি বলেন, ‘আমি কোনো মুচলেকা দেইনি। বরং ঢাকা মেডিকেল থেকে ফেরার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে- সেটার একটি ডকুমেন্ট তৈরি করে আমাকে ছাড়া হয়েছে।’
তবে বাকিদের কাছ থেকে ‘পুলিশের কাজে বাধা’ দেওয়ার অভিযোগ এনে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান নুর। তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে উল্লেখ আছে, যাতে তাঁরা আর এই ধরনের কাজ না করে।’
কোতোয়ালি থানায় করা মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (২৫), ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং আব্দুল্লাহিল বাকি (২৩)। এর আগে লালবাগ থানার মামলায় হাসান আল মামুনকে ১ নম্বর ও নাজমুল হাসান সোহাগকে ২ নম্বর এবং নুরকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: