৪৫ বছর পর ভারত-চীন গোলাগুলি, আরেকটি যুদ্ধ কী আসন্ন?

লাদাখের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে মে থেকে উত্তেজনা শুরু। এরপর জল গড়িয়েছে বহুদূর। ক্রমেই খারাপ হচ্ছে এলএসি-র পরিস্থিতি। সমস্ত ঘটনা অবশ্য সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) বরাবর ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে গোলগুলির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সেটাও ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম। পরিস্থিতি কী তবে দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে? যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ সূত্র জানাচ্ছে, এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চীন দাবি করেছে যে ভারতীয় সেনাসদস্যরা লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) হিসেবে পরিচিত দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত অতিক্রম করে গুলি চালানোর তারাও গুলি চালিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন।
চীন বলছে, সতর্ককতা হিসেবেই ওই গুলি চালিয়েছে তারা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চীনের দাবি, ভারতীয় সেনারাই এলএসি পার হয়ে গুলি চালিয়েছে। ওয়ার্নিং শট হিসেবে ওই গুলি চালিয়েছে বলে দাবি চীনের। দীর্ঘ তিন মাস ধরে এলএসি সীমান্তে উত্তেজক পরিস্থিতি জারি রয়েছে।
এর আগে জুনের ১৫ তারিখে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। এরপর সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে উভয় পক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কথা বলতে থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং সব অতিক্রম করে এলএসি সীমান্তে গুলি চলে; তাও দীর্ঘ ৪৫ বছর পর।
চীন আরও জানিয়েছে, ভারতের গুলি চালানোর পরে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে চীনা সেনা। কিন্তু পাল্টা পদক্ষেপটা ঠিক কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
পূর্ব লাদাখে তিন মাসের বেশি সময় ধরে সীমান্ত-সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-চীন। একের পর এক উসকানিমূলক কাজ চালানোর অভিযোগ চীনের বিরুদ্ধে। একের পর এক বৈঠক হলেও মেলেনি সমাধান সূত্র। মীমাংসার বদলে জারি লাল চীনের টালবাহানা।
অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতেই সাংহাই সম্মেলনের জন্য মস্কোতে রাজনাথ সিং। পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বাভাবিক করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানায় বেইজিং। এরপর বৈঠক হয়ও।
শুক্রবার মস্কোতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সাইডলাইন বৈঠকে বসেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেং ও রাজনাথ সিং।
সেখানে চীনকে প্যাংগং লেকে দখলদারি মনোভাবের জন্য কটাক্ষ ও সামলোচনা করেন রাজনাথ। তবে চীন তার উত্তরে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দেয়, যা রীতিমত নিন্দনীয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: