ভাসানচর দেখতে গেলেন ৪০ রোহিঙ্গা নেতা

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর বসবাসের উপযোগী কি না তা দেখতে গেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ৪০ নেতা।
কমপক্ষে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ওই দ্বীপে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের। এরই অংশ হিসেবে কক্সবাজারের উখিয়ার ট্রানজিট শরণার্থী ক্যাম্প থেকে শনিবার দুজন নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা ভাসানচরে যান।
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলটি উখিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেন। সকালে তারা চট্টগ্রামে পৌঁছে সেখান থেকে নৌবাহিনীর জলযানে করে ভাসানচরে যান।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের আশা যে রোহিঙ্গা নেতারা ভাসানচরের ব্যবস্থা দেখে এসে অন্য রোহিঙ্গাদের বোঝালে তারা সেখানে যেতে রাজি হবেন।
আরআরআরসি কার্যালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত মোট ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৪০ জনকে ভাসানচরের আবাসন প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য বাছাই করা হয়েছে। গতকাল রাতে তাদের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। শনিবার ভোর ৫টায় সড়ক পথে প্রথমে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর নৌযানে করে ভাসানচরে।
সামসুদ্দৌজা নয়ন আরও বলেন, রোহিঙ্গা মাঝিদের ভাসানচর পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়াটা একটি মোটিভেশনাল কার্যক্রম। তারা সেখানে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এরপর তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ফিরে আসবে।
সূত্র জানায়, ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া যাবে। দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ভাসানচরের অবস্থান মূল ভূ-খণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও তিন মিটার উঁচু বেড়িবাঁধ দিয়ে চরটিকে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা শিবির ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনকে যেসব রোহিঙ্গা নেতা সহযোগিতা করছেন তাদের মাঝি বলা হয়।
সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক বলেন, শনিবার ভোরে ৪০ জন রোহিঙ্গার একটি প্রতিনিধিদল ভাসানচরের গেছেন। তারা মঙ্গলবার ফিরবেন।ভাসানচরে রোহিঙ্গা নেতাদের আগস্টের শুরুতে যাওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: