আজ নিষেধাজ্ঞা শেষ, দেশে ফিরছেন সাকিব

আজ শেষ হচ্ছে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা। বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে ফিরতে আর বাধা নেই এই টাইগার তারকার। পরিবারের সঙ্গে সাকিব এখন আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই আজ তাকে প্রত্যাবর্তনের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সাকিব জানিয়েছে দ্রুতই সেরা ফর্মে ফিরতে চান। বিসিবির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
প্রত্যাবর্তনের ক্ষণে টাইগার ক্রিকেটের বরপুত্রকে দেশের মানুষ কাছে পাচ্ছে না। কারণ তিনি আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি সেখানকার প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটি। বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাকিবকে বরণ করে নিয়েছেন তারা। এতদিন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলায় আইসিসির বারণ থাকলেও শেষদিনে সাকিব ক্রিকেট নিয়েও কথা বললেন।
চমৎকার এই আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান সাকিব। সে সঙ্গে যার যার জায়গা থেকে সবাইকে দায়িত্ব পালনেরও অনুরোধ করেন তিনি। সাকিব জানান, আগামীতে দেশের ক্রিকেটকে আরো এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্য তার।
জানুয়ারির আগে টাইগারদের আন্তর্জাতিক কোনো সিরিজ নেই। তাই মাঠে ফেরারও কোনো তাড়া নেই। তবে প্রত্যাবর্তন সহজ করে দিতে এগিয়ে এসেছে বিসিবি। দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে সব ধরণের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস আছে আগে থেকেই। নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে দুই পক্ষের।
এক বছর পর ফিরছেন, কেমন লাগছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিব বলেন, ভালো লাগছে। দোয়া করবেন, যেন দেশের জন্যে ভালো খেলতে পারি। চেষ্টা সবসময়ই থাকবে। আর আমার মতো ভুল যেন কেউ না করে।
করোনায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, করোনার মতো মহামারিতে যারা মারা গেছেন তাদের শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাচ্ছি। করোনা থেকে বাঁচতে আমাদের সবাইকে আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত। সবার উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। দেশে ও বিদেশে সবার প্রতি এই আহ্বান থাকবে আমার।
১৫ নভেম্বর থেকে বিসিবি আয়োজিত টি-টোয়েন্টি লিগ দিয়ে ২২ গজে ফিরবেন টাইগার পোস্টার বয়। তার আগে ১০ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা।
অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে না জানানোয় গত বছরের ২৯ অক্টোবর সাকিবকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। মূল শাস্তি ছিল দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা, তবে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা ছিল স্থগিত।
নিষিদ্ধ হওয়ার সময় সাকিব ছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। শাস্তি পাওয়ার মাত্র ১ সপ্তাহ আগে ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে তিনি ছিলেন নেতৃত্ব দেয়া ক্রিকেটারদের একজন। সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার পর গত মার্চের জিম্বাবুয়ে সিরিজ ছাড়া বাকি সব সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্সে ধুঁকেছে বাংলাদেশ দল।
গত বছরের অক্টোবরে ক্রিকেটারদের তিন দিনের ধর্মঘটের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দিয়েছিল সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবর। আইসিসি সেসময় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, এই চার মাসের মধ্যে তিনবার প্রস্তাব আসে সাকিবের কাছে। একবারও তিনি কোনো কর্তৃপক্ষকে জানাননি।
আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ধারা অনুযায়ী, কারো কাছ থেকে সন্দেহজনক কোনো বার্তা পেলেই আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ড কিংবা দায়িত্বশীল কাউকে জানাতে হয়। এটা গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রতিটি সিরিজ, টুর্নামেন্ট, ফ্র্যাঞ্চাইজি আসরের আগে ক্রিকেটারদের এই নিয়ম মনে করিয়ে দেওয়া হয় বারবার। এসব নিয়ে ক্লাসও করানো হয়। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত হতে পারে শাস্তি।
নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম কয়েক মাস দেশেই ছিলেন সাকিব। পরে করোনাভাইরাসের দুর্যোগ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রে যান স্ত্রী-সন্তানের কাছে। তার দ্বিতীয় সন্তান পৃথিবীর আলোয় আসে গত এপ্রিলে। তাদের সঙ্গে সাড়ে ৫ মাস কাটিয়ে তিনি দেশে ফেরেন গত ২ সেপ্টেম্বর। শুরু হয় মাঠে ফেরার প্রস্তুতি পর্ব।
বিসিবির কোনো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের নিয়ম নেই বলে সাকিব অনুশীলনের জন্য বেছে নেন তার বেড়ে ওঠার প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে। সেখানে তার ঘনিষ্ঠ দুই কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চলে তার অনুশীলন। পাশাপাশি বিকেএসপির বিভিন্ন অনুশীলন সুবিধা কাজে লাগান তিনি। বিকেএসপির অ্যাথলেটিকস কোচ, বক্সিং কোচরাও সহায়তা করেন তাকে।
বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরে দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে সাকিবের অফিসিয়াল ক্রিকেটে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সফরটি স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর গত ১ অক্টোবর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। সেখানে অবশ্য অনুশীলন চালিয়ে গেছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: