ইয়াবাসহ গাড়ি আটক হলেও রামু’র ইয়াবা ডন সাইদুল অধরা

“সাইদুলের বিশ্বস্ত সহযোগী রাসেল আটক হওয়ায় বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য”

নিজস্ব প্রতিনিধি  : চট্টগ্রাম বোয়ালখালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ হাজার ৬ শত পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার ইউনিয়নের কামরুল ও রাশেল সহ ৩জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, উক্ত ট্রাকের মালিক ও পাচারকৃত ইয়াবার প্রকৃত মালিক চাকমারকুল ডিঙ্গাপাড়ার শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইদুল প্রকাশ: সাইদ্দার। রামু উপজেলার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সাইদ্দা এখনো অধরা ও প্রকাশ্যে ঘুরছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সচেতন মহল।সে চাকমারকুল ইউনিয়নের ডিঙ্গাপাড়ার মরহুম মোস্তফার প্রথম পুত্র। বিগত ২ বছর ধরে কক্সবাজারে বিভিন্ন মিডিয়ার শিরোনাম ছিল এই সাইদুল।  

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৭.৪৫ মিনিটের সময় চট্টগ্রাম বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মোঃ নেছার আহমেদ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড ফুলতলা মোড় এলাকায় আরকান সড়কে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম গামী একটি ট্রাকে তল্লাশী করে ৭ হাজার ৬ শত ৫০ পিস ইয়াবাসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

আটককৃত মোঃ রাসেল(২২) চাকমারকুলের ইয়াবা ডন সাইদুলের বিশ্বস্ত সহযোগি। সাইদুলের যত অপকর্ম রয়েছে তার রাজস্বাক্ষী মো: রাসেল বলে জানা গেছে।প্রতিটি ইয়াবা চালানে সাইদুলের বিশ্বস্ত হিসেবে রাসেল সবসময় ইয়াবা ও টাকা বহন করে থাকে। রাসেল আটকের পর হতে সাইদুল কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকলেও এখন বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।আটককৃত ট্রাক যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ১১-০৩০৯।বিগত ৩ বছর ধরে সাইদুল গাড়িটির রং বদলিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখ ফাকি দিতে নিজে মালিক হওয়া স্বত্ত্বেও গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করেনি সে।

জনমনে প্রশ্ন, তার হঠাৎ পরিবর্তন যেন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মত। অবৈধ পথে ইনকাম করে সে এখন কোটিপতি। খরুলিয়ার ক্রসফায়ার হওয়া ও আটককৃত ইয়াবা ব্যবসায়িরা সাইদ্দার পার্টনার ছিল। তার চলাফেরা অসামাজিক পর্যায়ে চলে গেছে অথচ প্রশাসন নিশ্চুপ।

প্রকাশ্যে সে ডন স্টাইলে চলাফেরা করে। নিজে ইয়াবার টাকায় তৈরি করেছেন বড় রাজ প্রাসাদ দেখতে অনেকটা কক্সবাজারের পাচঁ তারকা মানের হোটেলের মত। ব্যবহার করেন ৪ লাখ টাকা দামের ২টি মোটর সাইকেল। স্থানীয় বড় বড় নেতা ও জন প্রতিনিধি ভয় পান তাকে। সবসময় পকেটে রাখেন অস্ত্র তাই ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেনা।

উল্লেখ্য যে, মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে খরুলিয়ার কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও আইনের আওতায় আসেনি অনেক ইয়াবা কারবারি। ধরা ছুঁয়ার বাইরে থেকে আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা সম্রাটদের একের পর এক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ক্রসফায়ার দিচ্ছে, তখন কক্সবাজার রামু উপজেলার শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট সাইদুল বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কার্যক্রম।

খরুলিয়ার ইয়াবা ডন সাইদুল ইয়াবা ব্যবসা করে গত কয়েক বছরে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নামে-বেনামে খরুলিয়া এলাকায় জায়গা-জমি কিনে সম্পত্তির মালিক হয়ে গেছেন। অথচ কয়েক বছর আগেও তিনি একটি দোকানের কর্মচারি ছিলেন। এরপর একাধিক মামলা খেয়ে দেউলিয়া হয়েছিলেন। কিন্তু মরণনেশা ইয়াবা ব্যবসার বদৌলতে আজ কোটিপতির খাতায় নাম লিখিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে মতে, সাইদুল সম্প্রতি খরুলিয়ায় নির্মাণ করেছেন কোটি টাকা ব্যায়ে বিলাশবহুল বাড়ি। এছাড়া শহরের কলাতলী আবাসিক এলাকার বিভিন্ন হোটেলে তার ফ্ল্যাটের ব্যবসা আছে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, খরুলিয়া ও চাকমারকুলের অপরাধজগত ও নানা অপকর্মের অন্যতম ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইদুলকে গ্রেপ্তারে বেরিয়ে আসবে ইয়াবা পাচারসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ডেইঙ্গা পাড়া এলাকার নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, সাইদুল প্রকৃত ইয়াবা গডফাদার তা এলাকার মানুষ অবগত রয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের করা মাদক কারবারিদের তালিকায় সাইদুল শীর্ষে রয়েছে।

এবিষয়ে সাইদুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: