কক্সবাজারে ৭শ অবৈধ দখলদারের নামে মামলা

কক্সবাজার সমুদ্র পাড়ে গড়ে তোলা ৫২ অবৈধ স্থাপনা আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে এজাহারনামীয় আসামি রয়েছে ৫৩ জন।
গত ১৮ অক্টোবর কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক ডেভিড চাকমা বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন- বখতিয়ার উদ্দিন, আজিজুল হক, মো. ইসমাইল, জয়নাল আবেদীন, মো. কাসেম, জয়নাল আবেদীন, কাজল, সরওয়ার আলী, মংচিং চাক ও আমিনুল ইসলাম মুকুল।
শহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেনকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় ৫২ অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সাগর পাড়ে।
সংঘর্ষে কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস ও দুইজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ, রাবার বুলেট ও ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে পুলিশ।
প্রায় আধঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষের পর পুলিশের শক্ত অবস্থানের মুখে পিছু হটে অবৈধ দখলদাররা।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল তাদের উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। পরে জসিম উদ্দিনসহ ৫২ জন অবৈধ দখলদার উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। একই বছরের ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে উচ্ছেদ কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন।
এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপীল বিভাগে আবেদন করলে গত ১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপীল বিভাগ শুনানি শেষে হাইকোর্টের রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে রায় দেন। আর এ রায়ের পরই জেলা প্রশাসন ও কউক এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়।
উল্লেখ্য, এরআগে গত ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকেও এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল প্রশাসন। পরে দখলদারদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটে এবং মালামাল সরানোর জন্য স্থাপনা মালিকদের শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। কিন্তু এরপরও অবৈধ দখলদাররা তাদের স্থাপনা না সরিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: