কক্সবাজার জেলার ২৬ লাখ মানুষের প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ ঠেকাতে চায় কারা?

মঈনুল হাসান পলাশ ॥
এক.
সবার কৌতুহল, শহরের প্রধান সড়কটি ক’ফুট চওড়া হবে?
আদতে যেমন প্রধান সড়কটি এবং দু’পাশ মিলিয়ে ১৫০ ফুট জায়গা ছিলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের,তেমনি তো আর নেই। এমনকি সড়কটি দু,পাশ দিয়ে চাপতে চাপতে কোথাও ৩০ ফুটে এসে ঠেকেছে। এর সাথে জুটেছে রাস্তার পাশের দোকানদার আর হকাররা।
এতোকাল ধরে, কেউ এসব অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা সারায় নি।
যুগ যুগ ধরে সওজ এর জমি বেদখল হয়ে গেছে। পিডিবি বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সড়কের পাশ থেকে দুরত্বে না রেখে,লাগিয়েছে প্রধান সড়কের একেবারে গা ঘেঁষে। যাতে দুপাশের দখলদারদের রাস্তার জায়গা দখল করতে সুবিধে হয়।
শহরের প্রধান সড়কটি শুরুতে ১৫০ ফুট প্রশস্ত করে মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে,ডিভাইডারে সবুজায়ন করে রাজধানী ঢাকার মতো অত্যাধুনিক সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের।
দখলবাজি এতোটাই চরমে যে,সেই পরিকল্পনা করা গেলো না।
এরপর চিন্তা করা হলো ১০০ ফুট চওড়া রাস্তা করা যায় কি না?
সেটাও সম্ভব হলো না।
কমতে কমতে এখন ৫০ ফুট চওড়া রাস্তা হবে শহরের মাঝে। তা-ও সবখানে নয়। কোথাও সেটা হবে মাত্র ৪০ ফুট চওড়া।
ডিভাইডার দুরে থাক,দুটো বড় বাস পাশাপাশি অতিক্রম করতেও কষ্টসাধ্য হবে। কোথায় ফুটপাত? কোথায় বাইসাইকেল ওয়ে?
কেউ কেউ বলবেন,বেদখলি জায়গা উচ্ছেদ করেই চওড়া রাস্তা করা যায়!
অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে কি অবস্থা হয়,গতকাল শনিবার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে তো দেখলেন।
একদল সুযোগ সন্ধানী,কক্সবাজারের গণমানুষের মুখোশধারী শত্রুরা,দখলবাজদের লেলিয়ে দিয়ে শহরে চরম নৈরাজ্য ঘটাবে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বানাবে।
তাই প্রধান সড়কটি আর ১০০ ফুট চওড়া করা গেলো না। শহরবাসী ৪০ ফুটের রাস্তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন!
প্রধান সড়কটি ১০০ ফুট চওড়া হলে,ডিভাইডার হলে,ঝকঝকে সুপরিসর ফুটপাত হলে কার লাভ হতো?
ফোরকান আহমদ সাহেবের? নাকি কক্সবাজার জেলার ২৬ লাখ মানুষের??
দুই.
শেষ পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের প্রাণ প্রবাহ, প্রধান সড়ক পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
কতো অপমান,গালাগালি,কুশপুত্তলিকা দাহ সইতে হলো কউক চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল(অব.) ফোরকান আহমদ সাহেবকে।
তিনি যদি কক্সবাজারে বাইরের লোক হতেন,গতানুগতিক আমলা মনোবৃত্তিসম্পন্ন হতেন,তাহলে নিশ্চয়ই এসব সইতেন না।
গোল্লায় যাক কক্সবাজার! আমার কি?? – এই বলে সরে যেতেন৷ চলে যেতেন।
কিন্তু তিনি যে,কক্সবাজারের ভূমিজ সন্তান। নিজের জন্মস্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই রয়ে গেলেন এখানে। কক্সবাজারটা সুন্দর হলে,আগামী প্রজন্ম তাকে মনে রাখবে। শুধু এই পাওনা।
আমার কথাগুলোতে কেউ কেউ চামচামির দূর্গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করবে। করুক।
ফোরকান সাহেবের মর্মবেদনা আমি বুঝি।
এই তল্লাটের মানুষ মিষ্টি কথায় তুষ্ট হয়। সব লুটে নিলেও সমস্যা নেই। গালভরা মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট এই কক্সবাজারের মানুষ খেয়াল করে না যে,মিষ্টি কথা বলা ভন্ডরা তাদের “পেছনের কাপড়”ও খুলে নিয়ে গেছে।
ফোরকান সাহেব মিষ্টি কথা বলতে পারেন না,মিথ্যা আশ্বাস দিতে পারেন না। তাই অনেকের কাছে অপ্রিয় হয়েছেন।
অথচ কক্সবাজারের মানুষ কবে বুঝতে পারবে,মিষ্টি কথায় আর চাপাবাজিতে রসাতলে গেছে কক্সবাজার।
বুঝি না, কেনো মানুষ বুঝতে পারছে না? এই মূহুর্তে দেশের সবচেয়ে বাজে শহর কক্সবাজার!
সব দখলবাজদের শহর কক্সবাজার!
লুটপাটকারী,দুর্নীতিবাজদের শহর কক্সবাজার!

Leave a Reply

%d bloggers like this: