টেকনাফে কর্মহীন জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনঃ সাহায্য কামনা

হাবিবুল ইসলাম হাবিব::
সাগরে ইলিশের প্রজনন মৌসূমে মা ইলিশসহ নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। গত ১৪ অক্টোবর থেকে আগামী ২২দিন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। টানা ২২দিন সময়ের মধ্যে পেশাজীবী জেলেরা অভাব-অনটনে অসহায় জীবন যাপন করছে। জেলেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য সরকারের কাছ থেকে সহায়তা চান। মুষ্টিমেয় কিছু জেলেরা ভরণপোষণ কষ্ট করে চালাতে পারলেও নিষেধাজ্ঞা চালাকালীন সময়ে বেশির ভাগ জেলে পরিবার অনাহারে দিন পাড়ি দিচ্ছে।

টেকনাফে সদর ইউনিয়নের জেলে মোঃ ইসলাম বলেন, সরকার যখন নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন বেকার পড়ে থাকি এই বেকার সময়ে সরকারি প্রণোদনা পেলে আমার পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে থাকতে পারব। সরকারের পক্ষে থেকে কোনো সহায়তা পেলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে দিলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হয়।

শাহপরীরদ্বীপ জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক সময় প্রকৃত জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ আসলে তারা পান না পাই অন্য শ্রেনীর মানুষ সুতরাং আমরা কিছু অসহায় জেলেরা বঞ্চিত হয়ে যায়।

সাবরাং ইউনিয়নের খুরের মুখের নৌকার মাঝি, ছৈয়দুর রহমান জানান, তার পরিবারের ৫ মেয়ে ৬ ছেলে মোট ১১জন শীতকালের শুরুতে ভালো মাছ আহরণ হলে এই দিকে ২২ দিন সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তাই ২২ দিন বন্ধ নিয়ে কষ্টে আছি তার পরেও সরকারের সহায়তা বন্ধের প্রথম দিন আসলে কোনোমতে খেয়ে চলতে পারতাম।

এ ব্যাপারে টেকনাফ মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, প্রকৃত জেলেদের সময়মত সহায়তা দেওয়া জন্য মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই বন্ধ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়ে টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৭ হাজার ৮ শত ৬০ জন জেলে ২০ কেজি করে সহায়তা পাবে বলে জানান।

Leave a Reply

%d bloggers like this: