রাখাইনে আরাকান আর্মির উপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হামলা জোরদার, জঙ্গি বিমান তলব

রাখাইন রাজ্যের রাথেদাউং টাউনশিপের অংথারজি গ্রামের কাছে পাহাড়ি এলাকায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আর আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে মঙ্গলবার সকালে সঙ্ঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছে, অভিযানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর স্থল, বিমান ও নৌ সেনারা যৌথভাবে অংশ নেয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছে যে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দুটো জঙ্গি বিমান পাহাড়ি এলাকায় তিনবার হামলা চালায়। সকাল ১০টা, বিকাল ৩টা ও বিকাল ৪টায় এই সব হামলা চালানো হয়। স্থল সেনা ও নৌযানগুলো তাদেরকে নিচ থেকে সহায়তা করে।
রাথেদাউংয়ের বাসিন্দা উ মাউং স উইন বলেন, “অংথারজি গ্রামের কাছে পাহাড়ে সঙ্ঘাত চলছে। মঙ্গলবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এসে জঙ্গি বিমান থেকে তিনবার হামলা চালায়। নৌবাহিনীর নৌযানগুলো নদী থেকে শেল নিক্ষেপ করে। অংথারজি গ্রামের কাছে আমি ধোঁয়া দেখেছি”।
পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের এমপি রাথেদাউং এলাকার উ খিন মাউং লাত বলেন, “রাথেদাউং এলাকায় এ যাবতকালের সঙ্ঘাতগুলোর মধ্যে মঙ্গলবারের সঙ্ঘাত ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। আগের সঙ্ঘর্ষের সময় শুধু হেলিকপ্টার থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সবশেষ এই সঙ্ঘর্ষে এমনকি জঙ্গি বিমান পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। নৌবাহিনীও হামলায় অংশ নেয়, এবং স্থল সেনারা কামান থেকে গুলি বর্ষণ করে”।
অংথারজি এবং কাছের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা গত মাস থেকেই এলাকায় সঙ্ঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তাদের ঘরবাড়ি থেকে পালাতে শুরু করে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য চেষ্টা করেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাউ মিন তুন বা রাখাইন স্টেট সিকিউরিটি ও বর্ডার অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রী কর্নেল মিন থানের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি দ্য ইরাবতী।
৩-৫ অক্টোবর, দুই পক্ষই অংথারজি গ্রামের কাছে কিয়াউকতান ও তিনওয়ে গ্রামের মাঝামাঝি কৌশলগত পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য তীব্র সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বলে, তারা ৪ অক্টোবর পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। তবে, ফেসবুকে আরাকান আর্মি জানায় যে, ৫ অক্টোবর তারা আবার পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আরাকান আর্মি দাবি করে যে, তাতমাদাওয়ের ৩০ সেনা সঙ্ঘর্ষে নিহত হয়েছে।
সরকার আরাকান আর্মিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করায় ইরাবতী সশস্ত্র এই গোষ্ঠির সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।
রাখাইন এথনিক কংগ্রেসের মতে, বিগত দুই মাসে কিয়াউতাউ, রাথেদাউং এবং ম্রাউক-উ টাউনশিপ থেকে ৩০,০০০ এর বেশি মানুষ ঘরবাড়িছাড়া হয়েছে। ২০১৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২২৬,০০০ জনেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়িছাড়া হয়েছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: