৯৬ বছর বয়সে স্নাতক!

বয়স ৯৬ বছর। জিউসেপ্পে প্যাটার্নো জীবনে বহু পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। ছোটবেলায় দারিদ্র, যুদ্ধ এবং অতি সম্প্রতি করোনা মহামারি তাকে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি করেছে। তবে জীবনের শেষ বেলায় এসে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছে। ইতালির সবচেয়ে বয়স্ক স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন জিউসেপ্পে। তার শ্রেণির শিক্ষার্থীদের থেকে তিনি ৭০ বছরের বড়। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পালেরমো থেকে এই ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। খবর এবিসি নিউজের।
স্নাতক হওয়ার পর জিউসেপ্পে বলেন, আমি অন্যান্য সবার মতোই সাধারণ। স্নাতক হয়ে তার কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বয়সের দিক থেকে আমি অন্য সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছি। তবে আমি এমন খ্যাতির জন্য করিনি।
তার যখন ৯০ বছর বয়স তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিউসেপ্পেকে স্নাতকের শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তার বাড়ি পালেরমো হওয়ায় তিনি বইয়ের জগতের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন কিন্তু কখনো শিক্ষালাভের সুযোগ পাননি।
জিউসেপ্পে বলেন, ‘২০১৭ সালে আমি নিজেকে বলেছিলাম এটা এখন বা কখনই নয়। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নিই। আমি জানি আমার তিন বছরের ডিগ্রি পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে আমি নিজেকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, ‘দেখি আমি এটা করতে পারি কিনা।’
পড়ালেখার আগ্রহ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জ্ঞান একটি স্যুটকেসের মতো যা আমি আমার সঙ্গে বহন করি, এটি একটি ধন’।
গত জুনে তিনি চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কা রিজুটো তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণ’।
ছোটবেলার দরিদ্রতার কারণে মৌলিক শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন জিউসেপ্পে। তারপর তিনি নৌবাহিনীতে যোগ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। সেই চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি রেলওয়েতে যোগ দেন। তিনি তার চাকরিজীবন নিয়ে খুশি থাকলেও পড়ালেখার নেশা তাকে তাড়িয়ে বেড়াতো। তিনি শিখতে চাইতেন এবং স্নাতক হতে চাইতেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: