মানবসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে কক্সবাজারের হোপ ফাউন্ডেশন

বিশেষ প্রতিবেদক:
মানবসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় দেশের আলোচিত সংগঠন রোটারি ক্লাব প্রদত্ত এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে কক্সবাজারের নামকরা মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান হোপ ফাউন্ডেশন। রোটারি ক্লাব প্রদত্ত ২০২০ সালের তিন ক্যাটাগরির পুরস্কারের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে এ্যাওয়ার্ড অর্জন করলো হোপ ফাউন্ডেশন। এর মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক অর্জনের পথে আরেকটি মাইলফলক তৈরি করলো হোপ ফাউন্ডেশন।

জানা গেছে, দেশের সুপরিচিত এবং প্রভাবশালী সামাজিক সংগঠন রোটারি ক্লাব প্রতিবছর মানবসেবায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার হিসেবে এওয়ার্ড প্রদান করেন। ২০২০ সালের এই এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে হোপ ফাউন্ডেশন (স্বাস্থ্য খাত), অধ্যাপক মুফিজুর রহমান (স্বাক্ষরতা ও শিক্ষা) এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বেগম ফজিলাতুন্নেসা (মরণোত্তর) এ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। গত ১৪ নভেম্বর ঢাকার একটি হোটেলের হলরুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই এ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয়। হোপ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন কান্ট্রি ডিরেক্টর কেএম জাহিদুজ্জামান। বাণিজ্য মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই এ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

তথ্য মতে, ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা হোপ ফাউন্ডেশন ২০ বছরের মাথায় কক্সবাজারের বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য সেবার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক মহীরূপে আবর্তিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান নিরলস সেবা দান করে যাচ্ছে। রামু চেইন্দায় অবস্থিত হোপ হসপিটাল এবং উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত সুপরিসর ফিল্ড হাসপাতাল এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০টির বেশি বার্থ সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার পরিচালনা করছে হোপ ফাউন্ডেশন। ইতিমধ্যে স্থানীয়দের যুগান্তকারী সেবা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে অনেক আগেই। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা আসার পর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে একইভাবে প্রশংসনীয় সেবা দিয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে হোপ ফাউন্ডেশন। শুধু তাই নয়; বরাবরের মতো মহামারি প্রতিরোধেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে হোপ ফাউন্ডেশন। রামুর স্থায়ী হাসপাতালে ৫০ শয্যা ও ক্যাম্পের ফিল্ড হাসপাতালে ৫০ শয্যা মোট ১০০ শয্যার করোনা হাসপাতাল স্থাপন করে হোপ ফাউন্ডেশন আলোচনার শীর্ষে চলে আসে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার পাশপাশি ফিস্টুলা অপারেশন, ঠোঁটকাটা অপারেশন, মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণসহ আরো কয়েকটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে উল্লেখ যোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছে হোপ ফাউন্ডেশন। ফিস্টুলা নির্মূলে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় ইতিমধ্যে বেশ প্রশংসা অর্জন করেছে। এ কারণে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের ফিস্টুলা নির্মূলে দায়িত্ব পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।

হোপ ফাউন্ডেশন শুধু কক্সবাজার নয়; পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক তৈরি করতে চায়। এই অর্জন তাদের শাণিত করে আগামীর অগ্রযাত্রায় আরো উৎসাহ যোগাবে- এমনটি বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

হোপ ফাউন্ডেশন এর কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এম জাহিদুজ্জামান তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন বলেন, স্বাস্থ্যখাতে মানবতার অ্যাওয়ার্ড ২০২০ পেয়ে খুবই খুশি আর এজন্য রোটারি ক্লাব ঢাকা স্টার্স এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ষ হোপ ফাউন্ডেশন সৃষ্টির দিন থেকে মানবতার কাজ করছে এবং এই মানবতার সেবা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে আর এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

হোপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ও প্রেসিডেন্ট আমেরিকা প্রবাসী চিকিৎসক এবং কক্সবাজারের কৃতি সন্তান ইফতিখার মাহমুদ বলেন, এই এ্যাওয়ার্ড হোপ ফাউন্ডেশন এর জন্য বিশাল অর্জন। এই সম্মান আমাদের কাজের উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক গুণে বাডিয়ে দেবে।

তিনি বলেন, হোপ ফাউন্ডেশন দুই দশকের বেশী সময় ধরে কক্সবাজার জেলা, চট্টগ্রাম জেলা এবং পার্বত্য জেলার হতদরিদ্র মানুষের কাছে নিরাপদ মাতৃসেবার পাশাপাশি প্রসবজনিত ফিস্টুলার চিকিত্সা , ঠোঁট কাটা, তালু কাটার চিকিৎসাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্হ্য সেবা দান করে আসছে। ২০১৩ সাল থেকে হোপ ফাউন্ডেশন মিডওয়াইফ প্রশিক্ষনের মাধ্যমে অত্র এলাকার মাতৃসেবার মান বিশ্বপর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। রোটারী ক্লাবের এই বিশাল সম্মাননার জন্য আমি হোপ ফাউন্ডেশন এর পরিচালনা পরিষদ, নিবেদিত প্রান ব্যবস্থাপনা পরিষদ, সকল ডাক্তার, নার্স, মিডওয়াইফসহ সকল কর্মচারীর এবং শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: