1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed
সদ্য পাওয়া :
শিক্ষার্থীদের চাপে পুলিশের গাড়িকে মামলা দিলো পুলিশ ধর্মনিরপেক্ষ ভারত গড়তে চান মমতা ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের শপথ ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে’ সাউথ আফ্রিকা ফেরত ২৪০ জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ২৪০ জনেরই ফোন বন্ধ, ঠিকানাও ভুল রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দেবে জাতিসংঘ এবার কক্সবাজারে ডানা মেলছে মুক্ত বিহঙ্গ, সাথে ৩৫ প্রবীণ-প্রতিবন্ধী কক্সবাজারে বিমানের ধাক্কায় ২ গরুর মৃত্যু কুতুবদিয়ায় স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন; বিজয়ী নৌকা বঙ্গবন্ধুর নামে স্লোগান দিয়ে ছাত্রনেতারা টেন্ডারবাজি করে— চবিতে মুনতাসির মামুন কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর প্যারাবন রক্ষা ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দাবীতে মানববন্ধন

আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ সমস্যা ও সম্ভাবনা-একটি যৌক্তিক আলোচনা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১
  • ১৪৩ Time View

আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ সমস্যা ও সম্ভাবনা-একটি যৌক্তিক আলোচনা

আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর বাজেট নিয়ে এ লেখাতে খুব বেশি কিছু আর বলব না। কারণ ইতোমধ্যে অনেকেই এ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর নির্মাণের বাজেট জেনে তাজ্জব বনে গেছেন এবং এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লিখেছেন। এখানে শুধু একটু পরিষ্কার ভাবে বোঝার জন্য এবং তুলোনা করার সুবিধার্থে এ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর তৈরির বাজেট নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে দু’টি উদাহরণ উল্লেখ করছি। ১) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক একটি ওয়াস ব্লক তৈরির বাজেট ১৪ লাখ টাকা! জি, ভুল শোনেননি, একটি ওয়াস ব্লক তৈরির বাজেট ১৪ লাখ টাকা। (ছবি নং ১ দেখুন) ২) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্মিত একটি পুকুরের ঘাটলার বাজেট ২০ লাখ টাকার উপরে, যা প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের আইটেমের থেকেও অনেক ছোট। (ছবি নং ২ দেখুন)। ফলে সাধারণ মানুষ অন্তত এ দু’টি বাস্তব উদাহরণ থেকে কিছুটা হলেও এটা বুঝতে পারবেন যে বর্তমান কালে এই ১.৭১ লাখ টাকা দিয়ে আর যাই’ই হোক, ২ শতাংশ জায়গায় অন্তত টেকসই ও মানসম্পন্ন দুই কক্ষের একটি ঘরের সাথে বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট নির্মাণ করা সম্ভব নয়। এবার নিজের দেখা অভিজ্ঞতার কথা বলি। কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মত পরিবেশে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কর্তৃক নির্মিত শুধুমাত্র ১টি টয়লেটের নির্মাণ ব্যয় গড়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা!
ছবি নং ১
ছবি নং ২
এ দেশের সরকারি বাড়িঘর তৈরির জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি সংস্থা আছে পিডাব্লিউডি ও এলজিইডি। এই প্রকল্পে এলজিইডি বা পিডাব্লিউডি’র এস্টিমেট এর কোনটাই অনুসরণ করা হয়নি! এখন আবার কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন এ প্রকল্পের খরচাপাতি হিসেব করে কেউ না কেউ তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন। ইট-বালু-সিমেন্টের হিসেব বাজারদর থেকে কম ধরার কথা নয়, বেশিই ধরার কথা। অন্যান্য খরচও হিসেবে আসবে। আর এই কাজ কোনো নবিশ লোকের করার কথা না। এখানে একটা বিষয় আরও উল্লেখ করা দরকার এই সময়ের মধ্যে এ ঘর তৈরির উপকরণের মূল্য কতবার বেড়েছে সেটা দেখলেও বোঝা যায় যে এই বাজেটে এ ঘর করা সম্ভব কিনা? একটা বাস্তব উদাহরণ দেই এ প্রসঙ্গে। ২১ হাজার কোটি টাকার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প আজ ৪০ হাজার কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে! কি অবাক হচ্ছেন? না সত্যি’ই শুনেছেন। তাহলে এই বাজেট বৃদ্ধির কারণ কি? এই বাজেট বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হলো বাজেটের সময় উপকরণের মূল্য আর বর্তমান সময়ে উপকরণের মূল্যের পার্থক্য। এই সব কিছুর কিছুই মাথায় না রেখে এমন একটা বড় প্রকল্পের ডিজাইন করা হয়েছে ভাবা যায়??? আমরা সাদা চোখে এই প্রকল্পের ব্যার্থতার দায় দিলাম শুধু মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে। এমন আনাড়ি ও অসম্পূর্ণ প্রকল্প ডিজাইন যারা করেছে তাঁরা রয়ে গেছে লোক চক্ষুর অন্তরালে।

আজকের এখানে আলোচনার বিষয় এই প্রকল্পের ঘর নির্মাণের বাজেট নয়। উপরে উল্লেখিত বিষয় শুধু একটু বাস্তবতা বোঝার জন্য অবতারণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ২ শতাংশের একটি জায়গায় প্রায় ১০.৫০ ফিট বাই ৯.৫০ ফিট এর ২টি কক্ষের সেমি পাকা ঘর, এর সাথে রান্নাঘর, টয়লেট ও ৫ফিট বাই ১৯.৫ফিট এর লম্বা বারান্দার ডিজাইন উল্লেখ করা হয়েছে (ছবি নং ৩ দেখুন)। আর উপরে ০.৩৬ মি.মি. থিকনেসের রঙিন টিন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই ডিজাইনে নেই কোনো আরসিসি পিলার, নেই কোনো বেইজ বা ভিত্তি! লিনটেন নেই, এমনকী এক ছটাক রডের ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই!! আরও হাস্যকর হলো যেখানে আমরা সাধারণ রাজ মিস্তরিদের কাছে বাড়ি তৈরিতে বালু ও সিমেন্টের অনুপাতের কথা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে ৪:১, বডজোড় ৫:১। সেখানে বিশেষজ্ঞগণ এই প্রকল্পের ঘর তৈরিতে বালু ও সিমেন্টের অনুপাত প্রোজেক্ট ডকুমেন্টেই উল্লেখ করেছেন ৬:১!!! এই ঘরে ফাটল ধরবে না তো কোন ঘরে ফাটল ধরবে??? এছাড়াও এই প্রকল্পে, একটি গ্রাম অঞ্চলের ঘর করার জন্য মাটি ভরাট করার জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এমন প্রকল্প ডিজাইন যারা করেন তাদের নোবেল না দিয়ে উপায় আছে! শহরের ৫ তলায় এসি রুমে বসে যে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বা তার দল এই প্রকল্প ডিজাইন করলেন আর যে বড় সাহেবগণ শীতল হাওয়া খেতে খেতে কলমের খোঁচা দিয়ে এই প্রকল্প পাশ করে দিলেন তাদের ফাঁসি না দিয়ে আমরা সাধারণ ফেইসবুক সমাজবিজ্ঞানীরা মিডিয়া ট্রায়েলের মধ্যে ফাঁসি দিয়ে দিলাম উপজেলার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের! আরে কলা গাছে তো আম ধরবে না, তাই নাহ? যেখানে ঘর তৈরির প্রজেক্ট ডিজাইনেই দূর্বলতা আছে সেখানে ঘর তো ধ্বসে পড়বেই। আর বরাবরের মত এবারও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেলেন উপর তালার বড় কর্তারা 

ছবি -৩
এখন কেউ হয়তো বলবেন, আমি আমার গ্রামে এমন ঘর করেছি সেখানে লিনটেন দেইনি, আরসিসি পিলার ও বেইজ বা ভিত্তি দেওয়া লাগেনি। আপনার কথা একবারে ফেলে দিচ্ছি না। হ্যাঁ, করেছেন। তবে সেই ঘর করেছেন বছরের পর বছর ব্যবহার করে শক্ত হয়ে যাওয়া পুরানো মাটির ভিটিতে, নতুন ভিটিতে নয়। এছাড়া এ প্রকল্প করা হচ্ছে সরকারের খাস জমিতে। গ্রামের খাস জমি যে বিলে, চরে, নদী তীরে বা খালের পাড়ের নিচু জমি হয় সে কথা এরকম একটি প্রকল্পের ডিজাইন যারা করেন বা প্রকল্পের পরিচালনার সাথে যারা জড়িত থাকেন তাদের অজানা থাকার কথা নয়। এ প্রকল্পের উপরের দিকে যারা আছেন তারা কি একবারেও ভেবেছেন যে এ সব নিচু জমিতে মাটি ভরাট করে ঘর করতে হলে মাটি বসে যাওয়ার জন্য অন্তত নূন্যতম একটা সময় দেওয়া দরকার? উলটো তারা এ মাসে ঘর করার টাকা ছাড় করে ফের মাসেই ইউএনওদের কাছে রেডি ঘর চেয়ে চাপ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে দ্রুত উদ্বোধন করে ক্রেডিট নেওয়ার জন্য। নিজেরা ক্রেডিট নিতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাস্তবতাটা পর্যন্ত লুকিয়েছেন।

বাংলাদেশের মত একটি দেশে যেখানে দারিদ্র্য সীমার নিচে প্রায় ২১ শতাংশ লোক বসবাস করে, যাদের জীবনটা জসীমউদ্দিনের আসমানিদের মত বা পদ্মার বুকে কুবের মাঝির মত তাদের জন্য একটি সেমি পাকা ঘর স্বপ্নের চেয়েও বেশি। এ প্রকল্পের পূর্বের ফেইজে শুধু পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হত। উপকার ভোগী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেন বা স্বজন প্রীতি ছাড়া সম্পাদন হওয়ার কথা যেখানে ভাবাই যেত না সেখানে এবার অন্তত উপকার ভোগী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেন বা স্বজন প্রীতির অভিযোগ নিয়ে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের আরেকটি অনেক বড় কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছে যা আমরা সাধারণ মানুষ অনেকে এখনো উপলব্ধিই করতে পারিনি। অবৈধ দখলবাজ প্রভাবশালীদের হাত থেকে সরকারের প্রায় ২০০০ একর খাস জমি উদ্ধার হয়েছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে।

ভবিষ্যৎ সমস্যা
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাষ্ট্রের কিছু ক্ষতিও হচ্ছে। শুনে অনেকেই অবাক হচ্ছেন? বাস্তবতা হচ্ছে এই প্রকল্পে সরকারের খাস জমি বাছাই করে বরাদ্দ দেওয়ার সময় ‘ক’ শ্রেণী খাস জমির পরিবর্তে প্রকৃত পক্ষে ‘খ’ শ্রেণীর খাস জমি চলে এসেছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। এ সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই। এছাড়া আগামীতে যেখানে কৃষি আবাদ যোগ্য জমির সংকট হবে এবং কৃষি আবাদ যোগ্য জমি নষ্ট না করার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট অনুশাসন রয়েছে। সেখানে ভার্টিকাল এক্সটেনশান না করে হরাইজেন্টাল এক্সটেনশান করা রাষ্ট্রের ক্ষতি বৈ অন্যকিছু নয়। বরং একত্রে অনেক পরিবারের বসবাস করতে পারে এমন বিল্ডিং তৈরি করে দিলে কৃষিযোগ্য অনেক জমি বেঁচে যেত।

ইতোমধ্যেই দু’এক জায়গায় উপকার ভোগীরা ঘর ফেরত দেওয়া শুরু করেছে বলে খবরে এসেছে। (সূত্র দ্যা ডেইলি স্টার, ১৪ জুলাই, ২১) ভবিষ্যতে এ ঘরে কত জন থাকবে তা গবেষণার বিষয়! কারণ- মানুষ সামাজিক জীব। সে দলবদ্ধ ভাবে থাকবে এটাই ন্যাচারাল। আমরা সাধারণ গ্রামের মানুষ আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে সুখে দুখে খেয়ে-না খেয়ে এক সাথে বাঁচতে চাই। একারণে অনেক সময় দেখা যায় আমরা আমাদের বাবা-মাকে শহরে আমাদের কাছে নিয়ে আসলে তারা অল্প দিনেই এই শহুরে জীবনে হাপিয়ে ওঠে এবং তাঁরা আবার গ্রামীণ জীবনে যেখানে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী মিলেমিশে একসাথে বসবাস করে সেখানে ফিরে যায়। এমন সমস্যার উদ্ভব এ প্রকল্পেও হবে বলে ধারণা করা যায়। এ প্রকল্পের ঘর গুলো করা হয়েছে সরকারের খাস জমিতে এবং এই ঘরগুলোর উপকার ভোগীদের বেশীরভাগের আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী তাদের এ নতুন ঠিকানার আশেপাশে বসবাস করে না। ফলে উপকারভোগীরা এই নতুন ঠিকানায় অনেকেই সস্থিতে নেই। আমাদের গ্রামীণ জীবনে আজ আমার ঘরে খাবার না থাকলে পাশের চেনা প্রতিবেশী আমাকে একমুঠো চাল ধার-উদ্ধার দেয়। কোনো ভাবে খেয়ে বাঁচা যায়। কিন্তু নতুন এ আবাসন অনেক ক্ষেত্রেই নতুন স্থানে ফাঁকা মাঠে বা বিলে বা চরে বা কোনো পাহাড়ে। ফলে নেই বিপদে এগিয়ে আসা পরিচিত প্রতিবেশী। এতে করে বেশিরভাগ উপকার ভোগী দীর্ঘদিনের অভ্যাস্ত জীবনে ছন্দ পতন ঘটেছে। বিষয়টিকে আমরা অনেকেই হয়তো খুব ছোট বলে হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মত মনে করছি। কিন্তু এটা একজন মানুষের মনো-সামাজিক (সাইকো-সোশ্যাল) অবস্থার উপরে অনেক বড় প্রভাব ফেলে।

এছাড়া এ উপকার ভোগীদের অনেকেই আগে নিজের বা অন্যের জমিতে ভাঙ্গাচোরা ঘরে থাকলেও সেখানে তাদের কিছুটা হলেও কর্মসংস্থান ছিলো। যদিও সরকার এইসব প্রকল্প গুলো আশেপাশে গ্রোথ সেন্টারের কাছে করার চেস্টা করেছেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এটা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক উপকার ভোগীকেই এই ঘরে বসবাস করতে গিয়ে বাজার ঘাট থেকে দূরে চলে আসতে হয়েছে, আয়ের জন্য কর্মসংস্থানের থেকে দূরে চলে আসতে হয়েছে। ফলে তারা অনেকেই এইসব ঘরে বসবাস করতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। অন্যদিকে সরকার তাদের ঘর করে দিয়েছেন ঠিকেই কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য দু’একটি ইউটিলিটির সুবিধা এ প্রকল্পে না থাকায় উপকারভোগীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিহীন অন্ধকার ঘর যতই সুন্দর হোক তা নিশ্চয় কাউকে আকর্ষণ করবে না। এছাড়াও সরকার একজন উপকার ভোগীকে এত টাকা খরচ করে ঘর দিলেন অথচ সেই ঘরে নেই রঙ করার বাজেট! রঙ বা ডিসটেম্পারের কথা বাদেই দিলাম, নেই চুনা করার বাজেটও। ফলে হয়তো ঘর হয়েছে ঠিকেই, কিন্তু সেই ঘর হয়নি বসবাস যোগ্য। একটি প্রকল্প ডিজাইন করার সময় এতো অবহেলা করে করা হয়েছে যে উপকার ভোগীরা আকৃষ্ট হওয়ার বদলে হচ্ছেন অনাগ্রহী। এছাড়া এতে করে তাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস্ত জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অনেকেই আবার পূর্বের স্থানে বা তাদের নিকট আত্নীয়দের কাছে আশ্রয়ে যাওয়াকে অধিক শ্রেয় মনে করা শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে এই ঘরগুলো অনেক ক্ষেত্রেই হবে মাদক ও অসামাজিক কাজের আস্থানা। তখন এই জঞ্জাল সড়াতেই আবার সরকারকে টাকা খরচ করে প্রজেক্ট নিতে হবে। সরকারের এতো মহৎ একটি প্রকল্প, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এতো এতো পরিশ্রম, অথচ সরকারের জন্য যদি এমন সমালোচনা’ই বয়ে নিয়ে আসে ভবিষ্যতে, তাহলে সরকারের এই প্রকল্পকে সফল বলা যাবে কী?

সমাধান কি?
এ সমস্যার সমাধান হলো বাস্তব সম্মতভাবে প্রকল্প নিতে হবে। প্রকল্পে খুঁটিনাটি সকল বিষয় ইনক্লুড করে ডিজাইন করতে হবে, যেমন- মাটি ভরাট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করণ, বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ইত্যাদি। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে টপ-ডাউন এপ্রচের চেয়ে মাঠ পর্যায় থেকে চাহিদা নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে প্রকল্প ডিজাইন করতে হবে। দেশের সকল স্থানে এই একই প্রকল্পের ডিজাইন এক রকম নাও হতে পারে। কারণ পাহাড়ি এলাকার একটি ঘরের ডিজাইন ও ব্যয় আর উপকূলীয় অঞ্চলের একটি ঘরের ডিজাইন ও ব্যয় বা পরিবহন খরচ কখনো এক হওয়ার কথা নয়। যে কাজের জন্য যারা বা সরকারের যে ডিপার্টমেন্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ তাদেরকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাতে হবে। কারণ উপজেলা পর্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার যদি নিজেই এ কাজ বাস্তবায়ন করে তাহলে তাঁর ভুল ত্রুটি ধরার জন্য উপজেলায় আর কেউ উপরে থাকলো না। আর এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপজেলায়’ই এমনিতে সরকারের এতো পরিমান কাজ রয়েছে যে এর বাইরে এই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন তিনি নিজে করতে গেলে সঠিক ভাবে তদারকি করার সময় করে ওঠা কঠিন হবে তাঁর জন্য। ফলে কাজের গুণগত মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে বরং তাঁকে দিয়ে মনিটরিং ও সুপারভিশন করে যথাযথ মান নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে এধরণের অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
সাবেক ব্যাংকার

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....
© All rights reserved Samudrakantha © 2019
Site Customized By Shahi Kamran