1. editor.barta52@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. kamrancox@gmail.com : Amirul Islam Md Rashed : Amirul Islam Md Rashed
সদ্য পাওয়া :
রামুতে ছুরিকাঘাতে ইউপি সদস্যসহ আহত ২ কুতুবদিয়ায় মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৩ ছাত্র টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন ২০ হাজার ইয়াবা সহ আটক চকরিয়া পৌর নির্বাচনঃ ভোটারদের মাঝে আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি আতঙ্কও ১১ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিস্কার করলো কক্সবাজার আওয়ামী লীগ পরীমণির হাতে অশ্লীল বার্তা, পর্ণগ্রাফি আইনে যে অপরাধ ও শাস্তি অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল, আ.লীগ নেতা চিত্ত রঞ্জন বহিষ্কার মাতারাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প : পুনর্বাসন তালিকায় নাম উঠলেও ঘর জুটেনি পালানোর সময় ব্যাগভর্তি ইয়াবাসহ কোস্ট গার্ডের হাতে আটক ১ চকরিয়া পৌর নির্বাচন ঘিরে হয়রানি মামলা! জিয়াবুল হক সমর্থকদের সাংবাদিক সম্মেলন

মাতারাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প : পুনর্বাসন তালিকায় নাম উঠলেও ঘর জুটেনি

  • Update Time : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৬ Time View

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ১২শ মেগাওয়াট কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প করার জন্য ১ হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এর সাথে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়ে ৪৫টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদকৃত ভূমিহীন, ছিন্নমূল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য ১০ একর জমিতে তৈরি করা হয় ঘর। উচ্ছেদকৃত এসব পরিবারের তালিকায় নাম উঠলেও অনেকে ঘর পায়নি বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বাধ্য হয়ে ঠাঁই নিতে হচ্ছে ভাড়া বাসায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতারবাড়ীতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়রা তাদের জায়গা-সম্পদের পাশাপাশি মাথা গুজার ঠাঁই একমাত্র ঘর পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছেন। উচ্ছেদকৃতদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল— ঘর দেওয়া হবে, যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং চাকরি দেওয়া হবে।
এই প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর অনেকে কর্ম ও ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এদিকে প্রতিনিয়ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু উচ্ছেদকৃতদের পুনর্বাসনের জন্য ঘর তৈরি করা হলেও ঘর জুটেনি উচ্ছেদকৃত ৬ পরিবারের। তালিকায় নাম থেকেও তারা কেন ঘর পায়নি— এই রহস্য উন্মোচন হয়নি আজও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উচ্ছেদকৃত পরিবারদের জন্য ৫১টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেককে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদ তালিকায় নাম থেকেও ঘর পায়নি ৬ পরিবার। তারা হলেন— আবদুল জব্বার, ইউনুস, নাছির উদ্দীন, বদর উদ্দিন, কায়ছার ও মুফিজুর রহমান। কিন্তু বরাদ্দকৃত নতুন তৈরি ৬টি ঘর এখনো খালি পড়ে আছে। উচ্ছেদকৃতদের ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হলেও ৬টি পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না ঘর। দেখা গেছে, অনেকের নাম তালিকায় না থাকার পরও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘর পেয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আবদুল জব্বার বলেন, ‘আমার জায়গাটি খতিয়ানকৃত জায়গা। সবাইকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হলেও আমিসহ ৬ পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অথচ তৈরিকৃত ঘরগুলো এখনো খালি পড়ে আছে। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে শুকাচ্ছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি আমরা। আমি বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক। দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। সরকারকে আমি নিজের সব দিয়ে সহযোগিতা করেছি অথচ আজ আমাকে পথে বসতে হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাই।’
কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিডেটের মাতারবাড়ী প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলোর জন্য ঘর তৈরি করা হয়েছে। তাদের সবাইকে জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী ঘরও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ ঘর পায়নি এমন তথ্য তাদের জানা নেই। কিন্তু কেউ প্রকল্পের কোন ক্ষতিপূরণ পেলে তাদের আর ঘর দেওয়া হবে না বলে জানান।
অভিযোগ উঠেছে, পুনর্বাসনে অনেকে প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পেয়েও ঘরের বরাদ্দ পেয়েছেন। নোটিশ না পেয়ে অনেকে ঘরে পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উচ্ছেদকৃত পরিবারের বদর উদ্দিন নামে একজন বলেন, ‘আমাদের সব কিছু দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা কিছু পাইনি। একটা চাকরিও পাইনি। কর্ম হারিয়ে আমরা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। থাকতে হচ্ছে অন্যের বাসা ভাড়া নিয়ে। সরকার যদি আমাদের একটু নজর দেই তাহলে আমরা একটি মাথা গোজানোর ঠাঁই পাব।’
উচ্ছেদকৃত পরিবারের তালিকায় থাকা কায়সার বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সাবেক জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনের কাছে অনেকবার যোগাযোগ করেছি। ওনি আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু কোন সুরাহা মেলেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর দিচ্ছেন। অথচ সরকারি প্রকল্পে সহযোগিতা করতে গিয়ে নিজেরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। খুব কষ্টে আছি। দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারি না। মরার আগে একটা ঘর পেলে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব।’
স্থানীয় চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘উচ্ছেদকৃত পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করা হয়েছে। ৬টি পরিবার ঘর পায়নি। অথচ পুনর্বাসনে ৬টি ঘর খালি পড়ে আছে। তাদের ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমি অনেকবার জানিয়েছি। কেন বুঝিয়ে দিচ্ছে না জানিনা। তাদের ঘরগুলো দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এই বিষয়ে কোল পাওয়ারের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী উচ্ছেদকৃত সবাইকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ না পাওয়ার সুযোগ নেই।’
পুনর্বাসনে এখনো ৬টি ঘর খালি পড়ে আছে, ঘর না পাওয়া ৬টি পরিবারকে ঘর দেওয়া যায় কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালি থাকা ঘর ৬টি অন্য প্রকল্পের। উচ্ছেদকৃতদের জন্য নয়। ওই প্রকল্প এখন স্থগিত আছে, তাই ঘরগুলো খালি।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানান, তিনি এই ব্যাপারে জানেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
-সিভয়েস

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....
© All rights reserved Samudrakantha © 2019
Site Customized By Shahi Kamran