1. editor.barta52@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. kamrancox@gmail.com : Amirul Islam Md Rashed : Amirul Islam Md Rashed

মহীসোপান নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বন্দ্বের সমাধান কোন পথে?

  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩০ Time View

আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে ভারত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হলেও মহীসোপানের দাবিকে ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং বেইজলাইন নিয়ে আপত্তি নতুন এক বিরোধ সামনে এনেছে। মহীসোপানের দাবিকে ঘিরে এ বছর জাতিসংঘে পাল্টাপাল্টি চিঠি দেয়ার মাধ্যমে কার্যত দুদেশের মধ্যে একটা বিরোধপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমানা বিরোধ মিটে যাওয়ায় বাংলাদেশের উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত টেরিটরিয়াল এবং ২শ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সুনির্দিষ্ট হয়। তবে দু’শো নটিক্যাল মাইলের পর মহীসোপানের বাংলাদেশের দাবিতে ভারতের আপত্তি নতুন এ বিরোধের জন্ম দিয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হয় আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে। ২০১২ সালে ইটলসের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। সমুদ্রসীমানা নিয়ে দুটি রায়ের পর বাংলাদেশ যখন নতুন বেইজলাইন টেনে মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে, তারপরই বর্তমান সংকটের শুরু।
বাংলাদেশ জাতিসংঘে মহীসোপানের দাবি প্রথম তুলে ধরে ২০১১ সালে। কিন্তু মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর মহীসোপানের ওই দাবি সংশোধন করে ২০২০ সালে নতুন করে কমিশনে জমা দেয়। বাংলাদেশ সংশোধিত মহীসোপানের দাবি উপস্থাপনের ছয় মাসের মধ্যেই ভারত জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানায়। ২০২১ সালের ১৬ই এপ্রিল ভারত জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠিটি দিয়ে বাংলাদেশের মহীসোপানের দাবির ব্যাপারে আপত্তি তুলে ধরে। সম্প্রতি বাংলাদেশও জাতিসংঘে পাল্টা চিঠি লিখে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সাবেক কর্মকর্তা বিজন কুমার সাহা ভারতের মহীসোপান এলাকার জরিপ নিয়ে দীর্ঘসময় কাজ করেছেন। সবশেষ সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মি. সাহা বলছিলেন মহীসোপানের দাবির প্রশ্নে ভারতের আপত্তি কোথায়। “উইদিন দ্য ইইজেড, দ্যাট মিনস দ্য বাউন্ডারি, সেখানে বাংলাদেশ অ্যাডভানটেজ [সুবিধা] পেয়েছে। আমি অ্যাডভানটেজ কথাটাই ব্যবহার করছি।” “কিন্তু লিগ্যাল কন্টিনেন্টাল শেলফ্ যেটা বাংলাদেশ দাবি করেছে, সেটাতে ভারত সরকারের বক্তব্য হচ্ছে এটা গ্রে এরিয়ার (ধুসর এলাকা) ভেতরে পড়ে যাচ্ছে এবং ইন্ডিয়ার যে এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন তার ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। তার মানে দু’শো নটিক্যাল মাইলের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।”
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মহীসোপানের দাবি নিয়ে বর্তমান বিরোধের মূলে রয়েছে দু’দেশের বেইজলাইন। এ বেইজলাইন নিয়ে দুই দেশেরই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং আপত্তি আছে। এ বেইজলাইন বা ভিত্তিরেখা ধরেই উপকূল থেকে সমূদ্রের ১২ নটিক্যাল মাইল টেরিটরিয়াল সী, ২শ নটিক্যাল মাইল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং তারপর মহীসোপান পর্যন্ত পরিমাপ করা হয়। দুদেশের বেইজলাইন সমুদ্র উপকূল জুড়ে বিভিন্ন অবস্থানে পয়েন্ট আকারে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংশোধিত বেইজলাইনে ৫টি পয়েন্ট আছে আর ভারতের বেইজলাইনের ৮৯টি পয়েন্ট দ্বারা বিভক্ত।
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণের পর বাংলাদেশ ২০১৫ সালে বেইজলাইন সংশোধন করে। সেই বেইজলাইনের ভিত্তিতে ২০২০ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের কমিশনে মহীসোপানের দাবি উপস্থাপন করে। বাংলাদেশের নতুন বেইজলাইনের ২ ও ৫ নম্বর পয়েন্টের অবস্থান নিয়ে ভারতের আপত্তি। বাংলাদেশের নতুন বেইজলাইনের ২ ও ৫ নম্বর পয়েন্টে ব্যাপারে ২০১৭ সালের ৩রা আগস্ট ভারত জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি লিখে সুনির্দিষ্ট করে আপত্তি জানায়। ওই চিঠিতে বলা হয় নতুন বেইজলাইন ধরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা টানলে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে, যেখানে একটি গ্রে এরিয়া বা ধুসর এলাকা চিহ্নিত রয়েছে।
২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে আদালতের রায়ের পর বাংলাদেশ নতুন করে বেইজলাইন সংশোধন করে। সেই বেইজলাইন ধরে জাতিসংঘে মহীসোপানের দাবি সংশোধিত আকারে পেশ করে করে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে। বাংলাদেশের বক্তব্য হলো আদালতের রায় এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিধি মেনেই বাংলাদেশ বেইজলাইন নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ অভিযোগ করছে যে, ভারত আদালতের রায়ের পর তাদের বেইজলাইন সংশোধন করেনি। ভারত বেইজলাইন সংশোধন না করায় গ্রে এরিয়ার সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ভারতের বেইজলাইনের ৮৭ ও ৮৯ নম্বর পয়েন্ট নিয়ে আপত্তি রয়েছে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম বিষয়াবলি ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এ্যাডমিরাল মো. খুরশেদ আলম। তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুসরণ করে আইন-কানুন মেনেই বাংলাদেশ তাদের বেইজলাইন সংশোধন করেছে এবং মহীসোপানের সংশোধিত দাবি জাতিসংঘে উপস্থাপন করেছে। “ভারতের বেইজলাইন যেটা বালাশোর উপকূল থেকে সোজা যে টানা হয়েছে, সেখানে ৮৭ নম্বর পয়েন্ট দশ কিলোমিটার সমুদ্রের ভেতর রয়েছে- যে কারণে গ্রে এরিয়া সৃষ্টি হয়।”
তিনি জানান, “এটা না থাকলেতো গ্রে এরিয়ারই সৃষ্টি হয় না। এবং পয়েন্ট ৮৯ এটা এখনো বাংলাদেশের সমূদ্রসীমার ২.৩ নটিক্যাল মাইল ভেতরে। এটা তারা এখনো সরায় নাই ২০০৯ সাল থেকে। আমরা এটাই বলেছি যে, তোমরা আপত্তি দিয়েছ, তার আগে তোমাদের কাজগুলো ঠিক করার দরকার ছিল।”
বাংলাদেশ জাতিসংঘে মহীসোপানের যে দাবি দিয়েছে, সেটির আয়তন ৮ হাজার ৭শ বর্গকিলোমিটার। আর বিতর্কিত ‘গ্রে এরিয়া’ বা ধূসর এলাকার আয়তন ৭২০ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু বাংলাদেশের দাবি, ভারত আদালতের রায় মেনে তাদের বেইজলাইন সংশোধন করলে এই ‘গ্রে এরিয়া’ থাকে না। খুরশেদ আলম বলছেন, মহীসোপানের বিষয়টি এখন জাতিসংঘের কমিশনই নিস্পত্তি করবে। তবে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনাও অব্যাহত আছে । “কূটনৈতিকভাবে কথাবার্তা চলতেছে। আবার ওনারা চিঠি দিচ্ছে আমরাও দিচ্ছি। দেখা যাক এটা কূটনৈতিকভাবে যদি সমাধান হয়, ওনারা পয়েন্ট দুটো উঠিয়ে নেয় ফাইন। কিন্তু মহীসোপানের ব্যাপারে হয়তো কূটনৈতিকভাবে কিছু করার নাই, এটা জাতিসংঘ করবে।”
মহীসোপানের দাবি নিষ্পত্তি নিয়ে ভারতের সাবেক জরিপ কর্মকর্তা বিজন কুমার সাহা বলেন, আপত্তি যে যাই করুক মহীসোপানের সিদ্ধান্ত হবে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে – এটা কেউ চাইলেই পাবে – বিষয়টা এমন নয়। “দুটো দেশের বাউন্ডারি সেটা স্থল বা জলসীমায় হোক, সেটা একটা ম্যাটার অফ ডিমারকেশন।” “কিন্তু এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন বা লিগ্যাল কন্টিনেন্টাল শেলফ এটা লজ অফ দা সী’তে পরিস্কারভাবে বলে দেয়া আছে – যে ২শ নটিক্যাল মাইলের পরে কতটুকু মহীসোপান পাওয়া যাবে, কী কী কারণে পাওয়া যাবে, কী করলে পাওয়া যাবে, কোথায় পাওয়া যাবে। নিশ্চয়ই কমিশন এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত দেবেন।”
/বিবিসি বাংলা/

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....
© All rights reserved Samudrakantha © 2019
Site Customized By Shahi Kamran