1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

তৃণমূল আওয়ামী লীগে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, বিএনপিতে মামলার ভয়

  • Update Time : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬৫ Time View

ডয়চে ভেলে ॥
আওয়ামী লীগে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর বিএনপিতে মামলার ভয়ের ফলে দুইটি দলের তৃণমূলে প্রকৃত অর্থে রাজনীতি নেই আছে সংঘাত আর ভয়। যদিও দুইটি দলই ২০২৩ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে চাঙা করতে মাঠে নামার কথা বলেছে।
গত মাসে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূলকে চাঙ্গা করার সিদ্ধান্ত হয়। করোনার কারণে দলে মাঠ পর্যায়ে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনের এক বছর আগেই তারা তা কাটিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে বিএনপির বিভন্ন পর্যায়ের নেতারা তিন দিনের ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। ওই বৈঠকে তৃণমূলে সংগঠন সক্রিয় করতে জেলায় জেলায় সফরের কথা বলা হয়। দুইটি দলই স্থানীয় পর্যায়ে সম্মেলন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছেনা। দলীয়ভাবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য থাকলেও প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর ছাড়াছড়ি। এর একমাত্র কারণ বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় সহজেই ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ তাদের কেউই হাতছাড়া করতে চাইছেন না।
তৃণমূলের কথা:
শেখ আব্দুল ওয়াহাব ১৪ বছর ধরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে দুই বার কাউন্সিল হলেও তিনিই সভাপতি রয়ে গেছেন। তার কথা,” আর কেউ যোগ্য হলে তাকেই তো সভাপতি করা হতো।”
তিনি স্বীকার করেন তার উপজেলায় নানা গ্রুপিং, কোন্দল আছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোন্দল প্রকট হয়। তার কথা,” দলে এখন অনেক নেতা। সবাই ইউপি চেয়ারম্যান হতে চায়। তাই আমার এলাকায় অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে।” তিনি জানান,”অনেক দিন ধরে দল ক্ষমতায় থাকায় স্বার্থের দ্বন্দ্বে নানা গ্রুপ ও উপদল হয়েছে। তারা আবার বিভিন্ন জন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতার লোক। বাইরে থেকেও দলে লোক ঢুকেছে। তারাও আলাদা গ্রুপ।” তবে তার দাবি ,”এরপরও তৃণমূলে দল চাঙা আছে।”
উপজেলা পর্যায়ে মূলত নানা প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি, নানা উন্নয়নমূলক কাজকে কেন্দ্র করেই আওয়ামী লীগে বিভক্তি। স্থানীয় পর্যায়ে অধিপত্য ধরে রাখতেও জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা এই গ্রুপিং-এ জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, ফুল দেয়া , টেন্ডার এসব নিয়ে সংঘাত সংঘর্ষ লেগেই আছে । কেন্দ্রীয় নির্দেশেও তা বন্ধ হচ্ছেনা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের(আসক) হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট এই আট মাসে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ হয়েছে ৫৮টিঁ। এইসব সংঘর্ষে মারা গেছেন আট জন। আহত হয়েছেন ৮০২ জন। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে ছয়টি। আহত হয়েছেন ৩১ জন।
পাশের উপজেলা মোড়েলগঞ্জের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কেরামত আলী খান। তিনি ১৫ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকছেন। তিনি বলেন,”এখন বিএনপি করে মামলা খাওয়া ছাড়া আর কোনো আশা নাই। এলাকায়ও দলের নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয়। অনেকেই মামলার আসামি। আর মিছিল মিটিং করলেই গায়েবি মামলা। বিএনপি করা এখন কঠিন। আমি তো অবসর নিতে চাই। তারপরও দল সাধারণ সম্পাদক পদে নাম রেখেছে। আমি কী করব!” তার কথা,” এই পরিস্থিতি সারাদেশেই। তৃণমূলে বিএনপির কোনো কার্যক্রম বলতে কিছু নেই।”
দেশের আরো কয়েকটি এলাকায় কথা বলে একই চিত্র পাওয়া গেছে। আর নেতাদের অনেকেই এখন ঢাকায় থাকেন। তাদের কথা মামলার ভয়ে তারা এলাকায় যেতে পারেন না। সংগঠন করবেন কীভাবে? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিএনপির থানা এবং জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাই এখন আর এলাকায় যান না। তারা ঢাকা অথবা বড় বড় শহরে থাকেন। সেরকমই একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,”দুই কারণে এলাকায় যাই না। প্রথম কারণ মামলা। আর দ্বিতীয়ত, এলাকায় গেলে কর্মীদের কষ্টের কথা শুনে অসহায় বোধ করি। কিছু করতে পারি না।”
অবশ্য এর মধ্যেও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপিতে গ্রপিং এবং সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা আছে। আসকের হিসাব অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে আগস্ট এই আট মাসে বিএনপি বনাম বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে দুইটি । এইসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৫ জন। তবে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বেশি হয়েছে। এই সময়ে পুলিশের সাথে ১১টি সংঘর্ষ এবং ৪১২ জন আহত হয়েছেন।
নেতারা যা বলেন:
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দাবি করেন, এখন সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ ৬০ হাজার মামলা চলমান আছে। তিনি বলেন,”এই মামলা আর পুলিশি হয়রানি মোকাবেলা করেই আমরা দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকারের কর্র্তৃত্ববাদী মনোভাবের কারণে আমরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। এই সরকার বিএনপিকে সংঘবদ্ধ হতে দিতে চায় না।”
গত মাসের ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থীতা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক । তিনি বলেন আগে স্থানীয় পর্যায় থেকে তালিকা পাঠানো হত। এবার যে কেউ মনোনয়ন চাইতে পারবেন। তিনি বলেন,”নানা কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব ও ভুল বোঝাবুঝি আছে। এই দ্বন্দ্বের কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যেক বিভাগে কমিটি কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।”

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....
© All rights reserved Samudrakantha © 2019
Site Customized By Shahi Kamran