1. editor.barta52@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. kamrancox@gmail.com : Amirul Islam Md Rashed : Amirul Islam Md Rashed

পেকুয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও ভাংচুর, আটক ৯

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
  • ২৬ Time View

এম জাহেদ চৌধুরী : কক্সবাজারের পেকুয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পূজা মন্ডপ ও তাঁদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার
মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জনায়, মগনামায় বুধবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নেপালী রাণী শীল বাদি হয়ে পেকুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের
করেন। এতে ১৪ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত দেড়-দুইশ জনকে আসামী কর
হয়েছে। কুমিল্লার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে মগনামা ইউনিয়নের
হিন্দু পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তার আগে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের
কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির ও সুশীল পাড়া দুর্গা মন্দিরে হামলার চেষ্টা
চালানো হয়। এসময় মণ্ডপ দুটির প্রবেশ তোরণ ভাংচুর করে তাতে আগুন
দেয়া হয়। আইনশৃংখলা বাহিনী ও আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
ঘটনা প্রতিহত করতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে
পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসাইন ও পেকুয়া সদর
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনেওয়াজ আজাদ গুরুতর আহত হন। পরে
অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
নেয়। একই সময়ে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের কাচারীমোড়া এলাকার
দুটি পূজা মণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর ও হিন্দুদের বাড়িঘর
ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত
হয়েছেন।
এদিকে প্রায় একযোগে শুরু হওয়া হামলা তাণ্ডব সামাল দিতে
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মো.
হাসানুজ্জামান অতিরিক্তি ও স্থানীয় সাংসদ জাফর আলম পুলিশ,
বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে নেন। তার আগে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ আল
জিন্নাত ও পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ
আলী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এসময়
পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ ও ইউপি সদস্যরা
তাদের সাথে ছিলেন।

পেকুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুমন বিশ্বাস বলেন,
রাতের আধাঁরে সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, হিন্দু
সম্প্রদায়ের লোকজন ও তাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিমা ভাঙা হয়েছে, বাড়িঘর লুঠ করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার
সকল মণ্ডপে পূজা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের
মাধ্যমে জড়িত সকলের শাস্তি চাই।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন,
পেকুয়াা সদরের জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যরা বিশৃঙ্খলাকারীদের
প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা চড়াও হয়। অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর
হামলা চালায়। একই সময়ে তারা শিলখালী ও মগনামা ইউনিয়নে হামলা
ভাংচুর চালায়। মগনামায় ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে।
বাকি ঘটনায় আলাদা মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পেকুয়ায়
অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার ছবি ভিডিও দেখে জড়িতদের গ্রেপ্তারে
অভিযান চালানো হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, সাম্প্রদায়িক এ
হামলায় জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। পেকুয়ায় অতিরিক্ত ম্যজিস্ট্রেট ও
বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।##

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....
© All rights reserved Samudrakantha © 2019
Site Customized By Shahi Kamran