1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের নানা বেআইনি তৎপরতা

  • Update Time : সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
  • ৯২ Time View

আমিরুল ইসলাম মো. রাশেদ, কক্সবাজার::রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বজায় রাখতে এনজিওগুলো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এজন্য নানা বেআইনি কার্যক্রমেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো গত ১৮ নভেম্বর সর্বসম্মতিক্রমে রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাব পাস হয়েছে। আপাতত বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমরা ধরে নিতে পারি, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ একটু হলেও উন্মোচিত হলো। কিন্তু ক্যাম্পের বাস্তবতা দেখলে খুব আশাবাদী হওয়ার বাস্তব কারণ নেই। দাতা সংস্থার বিগ ব্রাদার বলে পরিচিত আন্তর্জাতিক এনজিওসহ অন্য এনজিওগুলোর বেশিরভাগই সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নগদ অর্থ বিতরণ : ২০২১ সালের প্রথম দিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের কমপক্ষে ৪ থেকে ৫টি সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, রোহিঙ্গাদের মধ্যে কোনো ধরনের নগদ অর্থ বিতরণ করা যাবে না। কারণ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে , সংগৃহীত অর্থ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ক্যাম্পের ভেতরে ও ক্যাম্পের বাইরে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে থাকে। এই অর্থ সংগ্রহ ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পের ভেতরে একাধিক হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটছে।

কিছুদিন আগে একত্রে ৬ জনকে হত্যাকাণ্ডের কারণও অর্থ সংগ্রহ ও আধিপত্য বিস্তার। যে স্থানীয় বাঙালিরা এক সময় খাবার দিয়ে ও জায়গা দিয়ে রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচিয়েছে, সেই রোহিঙ্গারা এতটাই অকৃতজ্ঞ যে, এখন স্থানীয় বাঙালিদের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হত্যা পর্যন্ত করছে! এই রোহিঙ্গাদের কারণে ক্যাম্পের মধ্যে ও আশপাশে বসবাসকারী স্থানীয় বাঙালিদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং তারা প্রতিমুহূর্তে আতঙ্কে জীবনযাপন করছে। অথচ বেশিরভাগ এনজিও বিভিন্ন নামে, ভিন্ন ভিন্ন রঙে-ঢঙে নগদ অর্থ বিতরণ করার প্রকল্প নিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতে সহায়তা করছে। প্রশিক্ষণের নামে, বিভিন্ন ক্যাম্পেইনের নামে, ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে, অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মা হিসেবে, বিধবা হিসেবে, আয়বর্ধনমূলক স্কিম হিসেবে বিভিন্ন নামে-বেনামে যেমন করে পারছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করছে। অনেকের দৃষ্টিতে মনে হতে পারে আয়বর্ধনমূলক স্কিমের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করা তো ভালো কাজ। অর্থ না পেলে রোহিঙ্গারা খাবে কী? আসল বিষয় এখানেই।

সরকার বিদেশি সাহায্যের মাধ্যমে প্রতি পরিবারে জনপ্রতি রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য হিসেবে প্রয়োজনীয় ১০টি ম্যান্ডেটরি আইটেম ১. চাল, ২. শুকনা মরিচ, ৩. সোয়াবিন তেল, ৪. মরিচের ঁগুড়া, ৫. হলুদের গুঁড়া, ৬. ডিম, ৭. লেবু, ৮. চিনি, ৯. লবণ, ১০. রসুন ও ১৪টি ঐচ্ছিক আইটেম ১. আটা, ২. মুগ ডাল, ৩. শুঁটকি, ৪. ছুরি শুঁটকি, ৫. ছোলা, ৬. সেমাই, ৭. আপেল, ৮. অরেঞ্জ (মালটা), ৯. পেঁয়াজ, ১০. মিষ্টিকুমড়া, ১১. আলু, ১২. কাঁচকলা, ১৩. শিম, ১৪. বেগুন ও অন্যান্য সামগ্রী প্রদান করছে। ফলে নগদ অর্থ দিয়ে রোহিঙ্গাদের খাদ্য কেনার প্রশ্ন এখানে আসছে না। খাদ্য, চিকিৎসা, মৌলিক শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় এতকিছু দেওয়ার পরও রোহিঙ্গাদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণ করা মানে হলো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে নগদ অর্থ দিয়ে এক ধরনের সহযোগিতা করা।

এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এই খাদ্য বিতরণের ক্ষেত্রে একটি পরিবারের শিশু থেকে পূর্ণবয়স্ক সবাইকেই সমান পরিমাণে বিভিন্ন আইটেম দেওয়া হয়। যেহেতু একজন শিশু একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সমান খাবার গ্রহণ করতে পারে না এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি পরিবারে গড়ে ৭ থেকে ১০ জন সদস্যের মধ্যে ৫ থেকে ৮ জন শিশু, তাই প্রতি পরিবারে জনপ্রতি যে খাবার বিতরণ করা হয় তা সব খাদ্য হিসেবে দরকার হয় না। বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই এসব বিতরণ করা খাদ্য তুলনামূলক কম মূল্যে বিক্রি করে নগদ টাকা ইনকাম করে। আর এ অর্থই আরসা, আল-ইয়াকিনসহ অন্যান্য বিভিন্ন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগ্রহ করে বিভিন্ন রকম অপরাধমূলক কাজ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে স্থানীয় বাঙালি সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে একটি এনজিওর আয়বর্ধনমূলক স্কিমের অ্যাগ্রিপ্রজেক্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তারা রোহিঙ্গাদের শেল্টার বা ঘরের ওপরের চালে শাকসবজি চাষ করার পদ্ধতি শেখানোর প্রকল্প নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের তারা এ প্রকল্পে বীজ, সার, গাছ লাগানোর জন্য উর্বর মাটি ও মাটির বস্তা, বাঁশের চালা করার জন্য বাঁশ, বেত, দড়ি ও প্রশিক্ষণ দেবে। এসব উপকরণ দেওয়ার পরও তারা নিজেদের শেল্টার বা ঘরের চালে এই গার্ডেনিং বা বাগান করার জন্য দৈনিক ৩৫০ টাকা করে নগদ অর্থ দেবে।

যাতায়াত ভাতা নামে রোহিঙ্গাদের নগদ অর্থ দেওয়ার জন্য ১০৫০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এভাবে নানা নামে বা প্রকল্পের নামে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অর্থ বিলিয়ে অনেক এনজিও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠাপোষকতা দিচ্ছে। অন্যদিকে অ্যাগ্রিবেইজড প্রজেক্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এদেশের মাটির প্রতি মালিকানাবোধ তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে অনেক এনজিও রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যেতে নিরুৎসাহিত করছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা বেআইনি হলেও এনজিওদের পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গারা ছোট-বড় থেকে শুরু করে অনেক সুপারশপের মতো বৃহদকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছে। অনেক এনজিও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করার দুঃসাহস দেখাতে রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করে থাকে। এতে ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য দিতে গড়িমসি করে থাকে।

রোহিঙ্গাদের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আরআরআরসি কার্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে সব রোহিঙ্গাকে উৎসাহিত করার। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে সরেজমিন বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করতে এনজিওগুলোর মধ্যে কোনো উৎসাহ পরিলক্ষিত হয় না। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ও সরকারি স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে অনেক ক্যাম্প ইনচার্জ এনজিও কর্মীদের বিরাগভাজন হন। একজন ক্যাম্প ইনচার্জ জানান, এনজিওকর্মীদের অনেকেই চায় না ক্যাম্পে ক্যাম্প ইনচার্জ থাকুক।
সূত্র :সময়ের আলো।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....
© All rights reserved Samudrakantha © 2019
Site Customized By Shahi Kamran