1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

ডা. মুরাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে আওয়ামী লীগ

  • Update Time : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৩১ Time View

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে আওয়ামী লীগ। দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন জাইমা রহমানকে নিয়ে করা মন্তব্য তার ব্যক্তিগত৷
এদিকে ডা. মুরাদকে দ্রুত মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন নারী অধিকার কর্মীরা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আমি পুরোপুরি তার বক্তব্য শুনিনি। তবে যতটুকু শুনেছি, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই কাঙ্খিত নয়। এটা নিয়ে এখনো দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। বিষয়টি আমরা দলের শীর্ষ পর্যায়ে অবহিত করবো। যে অডিওগুলো এসেছে এগুলো যদি সত্যি হয়, বানানো না হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা সুপারিশ করবো।”
ডা. মুরাদ হাসানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘তার ব্যক্তিগত বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘‘অবশ্যই আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো।” সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ‘নারী বিদ্বেষমূলক’ বক্তব্যে দল বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘এটা তার ব্যক্তিগত মন্তব্য হতে পারে। আমাদের দল বা সরকারের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য কেন সে দিলো, এটা নিয়ে অবশ্যই আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবো।”
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের অপসারণ দাবি
খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের অপসারণ দাবি করেছেন ৪০ জন নারী অধিকারকর্মী। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘‘রাষ্ট্রীয় পদে আসীন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর মুখে এই ভাষা বাংলাদেশের আপামর নারীদের অপমান এবং অসম্মান করেছে বলে আমরা মনে করি। জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত বাংলাদেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় সংসদে, রাজনৈতিক সভায়, গণমাধ্যমে, সম্মেলনে এরকম নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে পার পেয়ে যায়। এরমধ্য দিয়ে নারীর প্রতি যৌন হয়রানিকে সমাজ এবং রাষ্ট্রে কাঠামোগত প্রতিষ্ঠিত করার বৈধতা দেওয়া হয়।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘‘আমরা জানতে চাই, কীভাবে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই উঠে না?’। আমাদের পর্যবেক্ষণ বলে ক্ষমতাসীন দলগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে প্রায়শই এই ধরনের জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার নাম করে তাদের আধিপত্যমূলক ক্ষমতাকাঠামো টিকিয়ে রাখার জন্য এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ‘নারীকে’ই বিভিন্ন যৌন অসংবেদনশীল বক্তব্যের মাধ্যমে হেয় করে থাকে। আর এই রাষ্ট্রব্যবস্থা এভাবেই সংসদ, আদালত, প্রশাসন তথা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম যৌন হয়রানিমুলক মন্তব্য, তামাশা এবং মতামত দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ নারীর জন্য ভীতির পরিবেশ তৈরিতে উৎসাহিত করে।” বিবৃতিতে ডা. মুরাদকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় এনে মন্ত্রী পরিষদ থেকে অপসারণের দাবিও জানান তারা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু ডয়চে ভেলেকে বলেন, “একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্য আমাদের বিস্মিত করে। আমরা মনে করি, তার এই ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি তার অসম্মানের বহিপ্রকাশ। আমরা চাই না তিনি আর মন্ত্রীপরিষদে থাকুন। এ বিষয়ে যাথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি আমাদের।”
একই প্রসঙ্গে নারী অধিকার কর্মী খুশি কবীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, “তার এই বক্তব্য খুবই আপত্তিকর এবং অশালীন। একজন মন্ত্রী কিভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? অবশ্যই মন্ত্রীসভা থেকে তার অপসারণ চাই। পাশাপাশি এটাও বলতে চাই, বাংলাদেশে নারী শিক্ষা, নারী স্বাস্থ্যসহ নারীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কাজগুলো করছেন তার ইতিবাচক বার্তা সারাবিশ্বে পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্য সেই ইতিবাচক কাজকে নষ্ট করে দেয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
পদত্যাগ দাবি বিএনপির
জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি মুরাদ হাসানের একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান ও নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে নানান মন্তব্য করেছেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় পতাকাধারী একজন ব্যক্তির এ ধরনের বক্তব্য সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। খালেদা জিয়া প্রতিহিংসামূলক আচরণের শিকার হয়ে বিদেশে সুচিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। ঠিক এমন সময় তার পরিবারের এক নারী সদস্য তথা পরিবারের বিভিন্নজন সম্পর্কে অশ্লীল, অপপ্রচার ইতিমধ্যে নারীনেতৃত্বসহ দেশের সচেতন সব মহলের ঘৃণা কুড়িয়েছে।”
মুরাদ হাসানের মন্তব্যকে হীন রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক এবং নারী ও বর্ণবিদ্বেষী বলে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। এ মন্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, অন্যথায় ভবিষ্যতে যথাসময়ে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
‘ভূঁইফোড়’ চিকিৎসক ডা. মুরাদ ছাত্রদল করতেন: মির্জা ফখরুল
এদিকে সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ডা. মুরাদকে ‘ভূঁইফোড়’ চিকিৎসক আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে প্রথমে ছাত্রদল করতেন। পরে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন। ধিক্কার দেই আমি তাকে।”
ডা. মুরাদের বক্তব্য মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, “তথ্য প্রতিমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তাতে তার স্বরূপ উন্মোচন হয়েছে। তিনি যাকে ছোট করতে চেয়েছেন, এই ঘটনায় তার চেয়ে তিনি নিজের নিকৃষ্টতম প্রতিচ্ছবি দেখিয়েছেন। কোনো নারীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করার অধিকার কেউ রাখেন না। আর রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থেকে কেউ তো অবশ্যই এই ধরনের কথা বলতে পারেন না। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই ধরনের মন্তব্য করলে সাধারণ মানুষ নারীকে কী চোখে দেখবে? তখন তারা তো আর নারীর প্রতি সম্মান দেখাবেন না।”
আরেক মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন ডয়চে ভেলেকে বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য এতই জঘণ্য যে, পত্রিকাও সেই ভাষা ব্যবহার করতে পারছে না। আমাদের নীতিনির্ধারকদের সাংস্কৃতিক মান ও মানুষের মর্যাদার প্রতি যে অবহেলার দৃষ্টান্ত এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এসেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। তাকে দ্রুতই অপসারণ করা উচিত।”
‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই উঠে না’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে জানতে সোমবার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার একজন ব্যক্তিগত সহকারী ডয়চে ভেলেকে বলেন, “স্যার এ বিষয়ে এখন আর কথা বলবেন না।” পরে তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে রবিবার বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। সেখানে তিনি বলছেন, “এই ইস্যুতে ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং ক্ষমা চাওয়ার এই দাবিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। সমালোচকদের আমি বলবো, আসসালামু ওয়ালাইকুম, আপনি ভালো থাকেন, সুখে থাকেন, শান্তিতে থাকেন। আপনাদের এই গালিগালাজ আমাকে কোনোরকম ক্ষতি করতে পারবে না।”
উল্লেখ্য, এর আগে একজন নারী সাংবাদিককে নিয়ে কটুক্তি করে গ্রেফতার হন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran