1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

ডা. মুরাদ কি পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন?

  • Update Time : সোমবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৬৭ Time View

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান অসংলগ্ন ও অশ্রাব্য বক্তব্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত হয়ে আসছেন। প্রতিহিংসামূলক কথাবার্তা আর আক্রমনাত্নক অঙ্গভঙ্গির কারণে তাকে অনেকেই বিকারগ্রস্ত বলে মনে করে থাকেন। চলচ্চিত্রের এক নায়িকার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নোংরা ও অশ্লীল ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠেছে। এমন অশালীন কথাবার্তা ও আচরণের পরেও তিনি কীভাবে মন্ত্রিসভায় আছেন, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই্।
জামালপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে সামাজিক-রাজনৈতিক ও নারী সংগঠনগুলো। এমনকি নিজ দল আওয়ামী লীগেও ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠেছে।
বেগম খালেদা জিয়া ও জাইমা রহমানকে নিয়ে নোংরা বক্তব্যের জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই মুরাদ একসময় ছাত্রদলের নেতা ছিলেন।ছাত্রজীবনে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
একসময়ের ছাত্রদল নেতা ও হাইব্রিড আওয়ামী লীগার মুরাদ হাসানের কাণ্ডকীর্তি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন সরকার ও দলের সিনিয়র নেতারাও। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সোমবার ঢাকার দুই মেয়র ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তৈরি হয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত উল্লেখ করে বলেন, এটি দল বা সরকারের বক্তব্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য তিনি কেন দিলেন, বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান তার পদত্যাগের দাবিকে পাত্তা দিতে নারাজ। পদত্যাগের দাবিকে তিনি পাগলদের প্রলাপ উল্লেখ করে বলেছেন, আল্লাহর রহমতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় প্রতিমন্ত্রী হয়েছি। আইএম দ্য লিডারশিপ অব আওয়ার প্রাইম মিনিস্টার। হার এক্সিলেন্সি শেখ হাসিনা।
যেসব বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, সেগুলোকে ভুল বলে স্বীকার করেন কি না কিংবা প্রত্যাহার করবেন কি না জানতে চাইলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না।’ তাকে নিয়ে নানারকম সমালোচনা হলেও তার ওপর দল বা সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রত্যাহারের কোন চাপ নেই বলেও দাবি করেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ ও শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্যে যেভাবে দেশের মানুষ ফুঁসে ওঠেছে, তাতে তাকে মন্ত্রিসভায় না রাখাটাই যুক্তিসংগত। এখন তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন নাকি চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন, সেটাই দেখার বিষয়।
প্রসঙ্গত, পেশায় চিকিৎসক মুরাদ হাসান আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুরাদ হাসানকে প্স্বারথমেস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য থেকে তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran