1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

‘ওমিক্রন’ নিয়ে আতঙ্ক কিছুটা কেটেছে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩৫ Time View

প্রায় দুই বছর ধরে মহামারি করোনাভাইরাসের থাবায় নাজেহাল গোটা বিশ্ব। এর মধ্যেই সম্প্রতি ভাইরাসটির নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যার নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’। এটি করোনাভাইরাসের আগের সব ধরনের চেয়ে বেশি ভয়াবহ ও সংক্রামক হবে এমন আভাস দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। এতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দেশে দেশে শুরু হয় ওমিক্রন মোকাবেলার জোর প্রস্তুতি।
ইতিমধ্যে ধরনটি বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়লেও এটি তেমন ভয়াবহ নয় বলে আশ্বস্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেকটা কেটে আসছে। তবে ভেরিয়েন্টটির অনেক কিছু এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা। এজন্য তারা ওমিক্রন মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির তাগিদ দিয়েছেন।
শুরুতে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছিলেন, ওমিক্রন টিকার সুরক্ষা ভেদ করতে পারে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কিত পরিচালক ড. মাইক রায়ান বলছেন, টিকা ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের অন্য ভ্যারিয়েন্টগুলোর চেয়ে ওমিক্রন বেশি দক্ষ এমন কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে ড. রায়ান বলেন, করোনাভাইরাসে গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে আমাদের হাতে অত্যন্ত কার্যকর টিকা আছে, যা এখন পর্যন্ত সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এই বিজ্ঞানী বলেন, প্রাথমিক উপাত্তে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে, ডেল্টা বা অন্যান ধরনের তুলনায় ওমিক্রন যে মানুষকে বেশি অসুস্থ করে তা নয়। বরং অসুস্থতা যে অপেক্ষাকৃত কম সেই ইঙ্গিতই মিলছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই নতুন জরিপটি এখনো অন্য বিজ্ঞানীদের দ্বারা যাচাই করানো হয়নি। তবে এতে দেখা গেছে যে, করোনাভাইরাসের মূল ধরনটির বিরুদ্ধে ফাইজার-বায়োএনটেক টিকার ফলে যে পরিমাণ এ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল, ওমিক্রনের ক্ষেত্রে তা ৪০ গুণ পর্যন্ত কম হতে পারে।
এই গবেষণার নেতৃত্বদানকারী আফ্রিকা হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্ট অধ্যপক এ্যালেক্স সিগাল বলেন, টিকাকে ফাঁকি দেওয়ার যে ক্ষমতা ওমিক্রনের আছে তা অসম্পূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. এ্যান্টনি ফাউচিও বলেছেন, প্রাথমিক আভাসে মনে হয় ওমিক্রন হয়তো বেশি সংক্রামক হলেও কম মারাত্মক হতে পারে। তিনি দাবি করেন, ওমিক্রনে আক্রান্তের হার ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার ডেল্টার তুলনায় আপাতত কম।
ফাউচিও জানান, ওমিক্রনের চরিত্র পুরোপুরি বুঝতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে তার মতে, ওমিক্রনের বিষয়ে বেশ কিছু জিনিস এখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী বিজন শীল জানিয়েছেন, ওমিক্রন দ্রুত ছড়ালেও এটি ডেল্টা ধরনের মতো এতটা ভয়ংকর নয়।
বিজন কুমার শীল বলেন, ‘ওমিক্রনকে ভয়ংকর ভাবার কারণ এর মিউটেশন। এখন পর্যন্ত ডেল্টা ধরনের সর্বোচ্চ ১৫টি মিউটেশন হয়েছে। সেখানে ওমিক্রনের হয়েছে ৫০টি। যার ৩২টি স্পাইক প্রোটিন। যা দিয়ে সে মানুষকে খুব সময়ে সংক্রমিত করে এবং এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। এই যে ব্যাপক পরিবর্তন, এতে ধরনটি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। আর এজন্যই মনে করা হচ্ছে, হয়তো ওমিক্রন ডেল্টার চেয়েও ভয়ানক হবে।’
এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘ফিউরিন নামক একটি প্রোটিন পুরো ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। এটি সার্সকপ-১ এ ছিল না, তবে সার্সকপ-২তে আছে। এখন এটি যদি আরও বিস্তার লাভ করে তাহলে ডেল্টার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। তবে এই মুহূর্তে ডেল্টার মতো আতঙ্কিত করার অবস্থায় যায়নি ওমিক্রন। তবে এটাই শেষ নয়, খারাপ হতে পারে। আফ্রিকা থেকে অন্যান্য দেশে শনাক্তের পর এটি আরও শক্তিশালী হয়েছে, সংক্রমণ যত বাড়বে ততটাই এটি মারাত্মক হতে থাকবে।’
ওমিক্রন এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৫৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার এক সাপ্তাহিক রিপোর্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এটি যত ছড়াবে, হাসপাতালে সেবা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা তত বাড়বে। এজন্য ওমিক্রনের সংক্রমণ মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran