1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

পরিবেশ ধ্বংস ও চোরাই কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৫হাজার অবৈধ ডাম্প ট্রাক

  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৩২ Time View
**বিগত ১২ বছরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পাহাড় কর্তন সহ পরিবেশ বিপর্যয়**
(পাহাড় কাটা, বালু তোলা, কাঠ পাচার, ইয়াবা পাচার, চোরাইকৃত গরু পাচার সহ নানা অপরাধে জড়িত ডাম্পার ও মিনি ট্রাক)
শাহী কামরান::
কক্সবাজার সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে সড়কে অবাধে চলছে কাগজপত্রবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেস বিহীন ডাম্পার ও মিনি ট্রাক। কক্সবাজারে অবৈধ ও অপরাধমূলক কাজে এসব অনিবন্ধিত ‘ডাম্প ট্রাক’ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেবল পাহাড় কাটা ও বালু তোলার কাজে নয়, গরু চুরি ও ইয়াবা পরিবহনেও ব্যবহার হচ্ছে নম্বরবিহীন এসব ডাম্প ট্রাকগুলো। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, নম্বরবিহীন এসব ডাম্প ট্রাকের মালিকেরাই মূলত পাহাড় কাটা, বালু তোলা, কাঠ পাচারসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় কোন ডাম্প ট্রাক নেই। তবে বাকি ৭টি উপজেলায় যথাক্রমে রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ডাম্প ট্রাক নিয়ে চলছে নানা অপকর্ম। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইয়াবা পাচার, চুরি ডাকাতি ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে ট্রাকগুলো। চলতি বছরে পর্যটন নগরীর প্রধান সড়ক কলাতলী ডলফিন মোড়ে ৩মাসের ব্যবধানে দুটি বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেছে। কাকতালীয়ভাবে দুটিই ডাম্প ট্রাক চাপা দিয়েছে পথচারী সহ বেশ কয়েকটি সিএনজি গাড়িকে। এরপরেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের।
বিআরটিএ এর তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় মোট ডাম্পারের সংখ্যা ২ হাজার, রেজিষ্ট্রেশন নেই ১ হাজার ৮ শত ৯৫টির, রেজিষ্ট্রেশন আছে ১ শত ৫টির তার মধ্যে নবায়ন করে নাই ৮০টি, মোট বৈধ ডাম্পার আছে ২৫ টি। এসব যানবাহন আটক ও কাগজপত্র পরীক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়।
ফিটনেসবিহীন এসব ডাম্পার চলাচলের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।  হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মেয়াদোত্তীর্ণ ও লক্কড় ঝক্কড় মার্কা ডাম্পার চলাচলের কারণে পরিবেশ দূষণ ও সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশীরভাগ চালক অল্পবয়স্ক কিশোর যুবক, যাদের সিংহভাগেরই নেই কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে বিভিন্ন সময় ঘটছে দূর্ঘটনা। মহাসড়কে নাম্বার ও ফিটনেসবিহীন ডাম্পার চলাচল নিষিদ্ধ থাকা সত্তেও এসব যান মহাসড়কে সর্বদাই যাতায়াত করছে। এসব ডাম্পার গুলো মহাসড়কে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতির প্রতিযোগীতা শুরু করে দেয়। ট্রাফিক সিগনাল না মেনে যেখানে সেখানে থামে, যেখানে সেখানে মালামাল উঠানামা করে ও বেপরোয়া ওভারটেক করার ফলে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। ডাম্পার মালিক ও ড্রাইভারদের দাবি, তারা মাসিক চাঁদা দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ ম্যানেজ করে সড়কে গাড়ি চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ কক্সবাজার কর্তৃপক্ষ জানান, আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন সময় জরিমানা করি। নতুন আইনে অভিযান পরিচালনা শুরু করব, আশা করি সবাইকে এই আইনের বিষয়ে সচেতন করলে অবৈধ ডাম্পারগুলো দ্রুত নবায়ন ও রেজিষ্ট্রেশন করতে বাধ্য হবে।
অবৈধ ডাম্পার চলাচলের ব্যপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ সুপার এমএম রকিবুর রেজা বলেন, এত সংখ্যক ডাম্পার আসলে কক্সবাজার সড়কে চলমান আমার জানা ছিলনা। কক্সবাজার শহরে কউক, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং পৌরসভার উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত কিছু ডাম্পার চলমান সড়কে। এর বাহিরে অবৈধ কোন ডাম্পার আমরা বিভিন্ন সময় মামলা দিয়ে থাকি। অবৈধ ডাম্পারের বিষয়টা খতিয়ে দেখব এবং অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran