1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

কোন অঘটন ঘটেনি কক্সবাজারে

  • Update Time : সোমবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৪ Time View

জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় পূর্বনির্ধারিত স্থানে কক্সবাজার জেলা বিএনপি সোমবার মহাসমাবেশ করতে পারেনি।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য একটি স্থানে মাত্র ৩০ মিনিটের একটি সমাবেশের আয়োজন করে তারা। সেখানে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর ভীড় দেখা গেছে।
বিএনপি কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক হুইপ শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, “দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার দাবীতে দলের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে একটি মহাসমাবেশ করার জন্য কক্সবাজার ঈদগাও ময়দান, কক্সবাজার মুক্তিযোদ্ধা মাঠ ও শহীদ দৌলত ময়দানের যেকোন একটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসন বরাবরে আবেদন করা হয়। প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
” অনুমতি দেওয়ার দুদিন পর প্রশাসন থেকে ওই মাঠে সমাবেশ না করার জন্য বলা হয়। পরে স্থান পরিবর্তন করে সমাবেশটি শহীদ সরণীস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। ”
জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, ” রোববার সকাল থেকে মহাসমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করা হয়। এ সময় হঠাৎ শোনা যায় জেলা বিএনপি অফিস সংলগ্ন জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী যুবলীগ একটি সমাবেশ ডেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন সোমবার সকাল ৮ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বিএনপি অফিস এবং শহীদ মিনার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ”
” হাজার হাজার নেতা-কর্মীর প্রচন্ড চাপ ছিলো ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সেখানে মহাসমাবেশ করার। কিন্তু আমরা অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিই অন্য কোন স্থানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার ” বলেন শাহজাহান চৌধুরী।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, একই স্থানে একই সময়ে দুইটি রাজনৈতিক দল সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়ার প্রেক্ষিতে শান্তি শৃংখলা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রশাসন সোমবার ১৬ ঘন্টার জন্য ১৪৪ দারা জারি করেছে।
তিনি বলেন, ” প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিএনপি পূর্বনির্ধারিত স্থানে সমাবেশ করেনি। তবে তারা (বিএনপি) সেখানে কিছুটা দূরে কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দানে সমাবেশের জন্য জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারাসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। ”
পরে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন বিএনপি নেতাদের সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করার কথা জানালে তারা সেখান থেকে সরে পড়েন বলে জানান এডিএম আবু সুফিয়ান।
সোমবার সকালে জেলা বিএনপি কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবস্থান করছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কিছুদূরে অবস্হান করছে র‍্যাবের একটি দল। কিছু উৎসুক জনতা খালি পড়ে থাকা মঞ্চটি দেখছে।
মহাসমাবেশ শুরু হওয়ার কথা ছিল আজ বেলা ২টায়। কিন্তু উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কক্সবাজার জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাও ময়দানে মহাসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহাসমাবেশ সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসন মাত্র ৩০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন প্রধান অতিথি বিএনপি কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বিশেষ অতিথি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান সরকার একটি চরম স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিষ্ট সরকার। তাদের হাতে ভোট, গণতন্ত্র, দেশ ও জনগণ কোন কিছুই আর নিরাপদ নয়। তাদের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। এখন শুধু পালানোর পালা। তিনি জনগণকে নিজেদের ভাত-ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা বলেন, ‘সু-চিকিৎসার অভাবে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন আজকে বিপন্ন। তাকে বন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে টেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরকারের এ আচরণে তীব্র ঘৃণা জানাচ্ছি। ”
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মু্ক্তির ব্যাপারে আইনমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে অমানবিক ও মানবাধিকারের লংঘন বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ” আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন অসুস্থ হন ওই সময় ভারত থেকে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠীকে দেশে এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে। এরপরও তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে সুস্থ করেছেন। ”
” কিন্তু সরকার খালেদা জিয়ার বেলায় উল্টো আচরণ করছে। বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা সম্ভব হলেও দেশে এখনো চিকিৎসার যথাযথ সুযোগ-সুবিধা গড়ে উঠেনি। তাই বিএনপি নেত্রীর জীবন বাঁচাতে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানো জরুরি। ”
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে লক্ষ-কোটি মানুষের মা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মিরা সহ দেশের মানুষ তাদের মাকে বাঁচাতে ভবিষ্যতে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।
ঈদগাও ময়দানে সমাবেশ হবে দায়িত্বশীল নেতাদের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোর সকাল থেকে ঈদগাও ময়দানে জমায়েত হতে থাকে। সকাল ৯ টার দিকে সেখানে জড়োবহয় কয়েক হাজার বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছেন সকাল সাড়ে ১০ টায়। এ সময় সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, কক্সবাজার সদর আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না প্রমুখ নেতা-কর্মীদের মাঝে অবস্থান করছিলেন।
অপর দিকে হোটেল মোটেল জোনে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন নেতাদের ভীড়ে একটি গাড়িতে দেখা গেছে।
জাতীয়তাবাদী যুবদল কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল বলেন, প্রশাসন স্বাভাবিকভাবে মহাসমাবেশ করতে দিবে না এমনটি আঁচ করতে পেরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অন্তত পাঁচ হাজার উৎসাহী দলীয় নেতা- কর্মী গতকালই জেলা শহরে চলে আসেন মহাসমাবেশে যোগ দিতে।
এদিকে জেলা আওয়ামী যুবলীগ সকাল সাড়ে ১১ টায় কক্সবাজার পাবলিক লাইবেব্রির শহীদ দৌলত ময়দানে বিগত জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সরকারের বিজয়ের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘গণতন্ত্রের বিজয় উৎসবের’ অনুষ্ঠান না করলেও অবস্থান নেন।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran