1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

ছাত্রলীগ কোন পথে?

  • Update Time : বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৩ Time View

সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও নানা কর্মকাণ্ডে এখন যে প্রশ্নটি সামনে আসছে তা হলো ছাত্রলীগকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে কতদিন লাগবে? তারা কবে বদলাবে? কোন পথে যাচ্ছে তারা?
শাসক দল আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ছিল মঙ্গলবার। আর এই অনুষ্ঠানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তাদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। পরে অবশ্য তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান ভালোভাবেই শেষ করে। আর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সমাবেশের সামনের দিকে কারা বসবেন সেই ইস্যুতে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে শোভন ও রাব্বানীকে টেন্ডারবাজির অভিযোগে সরিয়ে দেয়া হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজে উপাচোর্যের কাছে তারা চার থেকে ছয় পার্সেন্ট চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ। ছাত্রলীগকে শোধারানোর জন্য এরপর জয়-লেখককে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু গত দুই বছরেরও বেশি সময়ে আসলে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে?
যে অভিযোগ এখন বেশি করে শোনা যাচ্ছে তা হলো ছাত্রলীগের পদ বাণিজ্য। ছাত্রলীগের ১২১টি ইউনিটের মাত্র ২৫টি ইউনিটের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে গত দুই বছরে। ছাত্রলীগে এখন পদ বাণিজ্য সিন্ডিকেট সক্রিয়। ঢাকার বিনিময়ে পদ দেয়ার যেমন অভিযোগ আছে। একইভাবে টাকার বিনিময়ে পুরনো কমিটি ধরে রাখার অভিযোগও আছে। আর কিছু কমিটিতে বিবাহিত এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে যুক্তদের ঠাঁই পাওয়ার অভিযোগ আছে।
সম্প্রতি সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি দেয়া হয় প্রেস রিলিজের মাধ্যমে। এর বিরুদ্ধে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ সাত মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি নাজমুল ইসলামকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন পদ নিয়ে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে।
সম্প্রতি কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতে এক নারীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ অভিযোগের মূল হোতা আশিকুল ইসলাম আশিকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলে অভিযোগ আছে।
১ জানুয়ারি ঘোষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজীর বয়স ৩০ বছরের চেয়ে বেশি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যশোর জেলা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন কবির পিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। ফেনসিডিলসহ একবার তিনি পুলিশের হাতে ধরাও পড়েছেন। ওই কমিটির ৯ জনের অধিকাংশের বিরুদ্ধে মামলা, বিবাহিত, অছাত্র ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. আল আমিনও এখন ছাত্র নন।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ-সমাজ সেবা সম্পাদক এবং ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, “তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রলীগের কমিটি না দেয়া এই সব সংকটের মূলে। ফলে অনেকেই পদ পাচ্ছেন না। আবার অনেকে বছরের পর বছর একই পদে আছেন। ফলে ছাত্রলীগে নানা ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে।” তার অভিযোগ,”কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেনদেন ছাড়া কমিটি দেয়া হয় না। যারা লেনদেন করতে পারেন তারা কমিটিতে স্থান পান। তবে আগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকও কমিটি দিতে পারেননি। যদি কমিটি না দেয়া হয় তাহলে কেন্দ্রীয় কমিটিও তাদের সময় বাড়িয়ে নিতে পারে।”
তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দাবি করেন,”ওইসব অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। করোনার কারণে আমরা কমিটি দিতে পারিনি। আমরা এখন দ্রুতই কমিটিগুলো দিয়ে দেব। আমরা যাচাই বাছাই করে কমিটিতে পদ দিই। সে কারণেও সময় লাগছে।”
আইনও সালিশ কেন্দ্রের(আসক) হিসেবে গত বছর ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এই সব ঘটনায় ছাত্রলীগের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন।
২০২০ সালে ছাত্রলীগ বনাম ছাত্রলীগ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। তাতে দুইজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।আর অন্য ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা তো আছেই। হল দখল, ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার ও চাঁদাবাজিও থামেনি।
তানভীর হাসান সৈকত বলেন,”ভালো করে যাচাই বাছাই না করে পদ দেয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। তারা সংঘাত- সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। নিয়ম মেনে যথাযথভাবে পদ দেয়া হলে এই পরিস্থিতি হত না।”
তবে লেখক ভট্টাচার্যের কথা,”মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে এটা সামান্যই একটা ঘটনা। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটেই থাকে। এটা কোনো ঘটনাই নয়। স্থানীয় পর্যায়ে যেসব ছাত্রলীগ নেতা সংঘাত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সেটা ব্যক্তি স্বার্থে হয়ে থাকে। এর সাথে ছাত্রলীগের রাজনীতির কোনো যোগ নেই। কোনো কোনো নেতা তাদের নিজের রাজনৈতিক স্বার্থেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ব্যবহার করেন। ”
তার মতে, ”কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকলেই তিনি নেতা হতে পারবেন না এটা ঠিক নয়। মামলা রাজনৈতিকসহ নানা কোন্দলের কারণেও হতে পারে। আমরা বিবেচনা করে দেখি, অনুসন্ধান করি যে কোনো মামলার কারণে যদি সত্যিকার অর্থেই নেতা হওয়ার অযোগ্য হন তাহলে আমরা তাকে পদ দেই না। প্রতিটি পদে আমাদের ছয়-সাতটি অপশন থাকে। তাই বিতর্কিতদের ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার সুযোগ নেই।”
আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের ওপর প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে তারা নিজেদের স্বার্থে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করতে চান। তাই ছাত্রলীগকে প্রভাব মুক্ত রাখতে, তাদের দেখভাল করার জন্য চারজন আওয়ামী লীগ নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের একজন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক। তিনি ডয়চে ভেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটনা নিয়ে বলেন,”একটি বড় ছাত্র সংগঠনে হাজার হাজার নেতা-কর্মী। সেখানে বসা নিয়ে টুক টাক ঝগড়া ফ্যাসাদ হয়। এটা বড় কিছু নয়।”
সারা দেশে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাত- সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রলীগে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গেছে। তারা এসব ঘটাচ্ছে। তবে আমরা চেক করছি যে, কারা এগুলো করছে। এগুলো চলতে দেয়া যাবে না।”
এদিকে বুধবার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা লোভের বশে পা পিছলে না পড়ে আদর্শ কর্মী হতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,”কোনোমতে পয়সা বানানোর শিক্ষা নিলে চলবে না। অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।”

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran