1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

ওসি প্রদীপের পুলিশ পদক কেড়ে নেয়ার দাবি

  • Update Time : রবিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩২ Time View

দুর্নীতি ও খুনের মামলার তথ্য গোপন করে পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বিপিএম পদক হাতিয়ে নিয়েছিলেন চাঞ্চল্যকর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। সিনহার হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। তথ্য গোপন করে পাওয়া ওসি প্রদীপের সেই সম্মানজনক পদক কেড়ে নেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।
রোববার (৯ জানুয়ারি) থেকে সিনহার হত্যা মামলার যুক্তি-তর্ক শুরু হলে সেখানে ওসি প্রদীপের বিপিএম পদক পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম। একইসঙ্গে ওসি প্রদীপের সেই সম্মানজনক পদক কেড়ে নেয়ার দাবিতে আদালতে আবেদন জানান তিনি।
প্রথম দিনে যুক্তি-তর্ক শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিংকালে পিপি ফরিদুল আলম বলেন, প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি দুর্নীতি মামলা, মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া টেকনাফ থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিলো। কিন্তু কৌশলে সব মামলার তথ্য গোপন রাখে প্রদীপ কুমার দাশ। তথ্য গোপন করেই হাতিয়ে নেয় বিপিএম পদক।
তথ্য গোপন করে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণামূলক অপরাধ করেছে প্রদীপ কুমার দাশ। তাই পদক কেড়ে নিয়ে প্রতারণার দায়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আবেদন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিকে বহুল আলোচিত মেজর সিনহা হত্যা মামলার যুক্তি-তর্ক রোববার সকাল থেকে শুরু হয়েছে; চলবে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিনে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি-তর্ক ও মামলার আসামি তিন এপিবিএন সদস্য ও স্থানীয় তিন ব্যক্তির যুক্তি-তর্কও সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তি-তর্কের জন্য বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ মামলার ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় গত বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্ত ভার দেন র‌্যাবকে।
ঘটনার ৬ দিন পর ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে র‌্যাব ঘটনায় পুলিশের দায়ের মামলার ৩ সাক্ষি এবং শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে। সর্বশেষ গত বছর ২৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব।
গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এবং র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারি পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছর ২৭ জুন আদালত মামলার ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে ৮৩ জনকে সাক্ষি করা হয়।

 

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran