1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

আওয়ামী শব্দের বিকৃতির জন্য ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে প্রশ্ন

  • Update Time : বুধবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৪৯ Time View

আওয়ামী লীগের ‘আওয়ামী’ শব্দের অর্থ বিকৃত করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে এক তরুণকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন রাজশাহীর একটি আদালত৷
একজন আওয়ামী লীগ নেতার করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার এই মামলার রায়ে একই সঙ্গে ওই যুবককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷ অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে৷ এই গুরুদণ্ড এবং রাজনৈতিক বিতর্কসহ সবকিছু আদালতে নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র আইনজীবীরা৷
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলছেন, ব্যক্তির মানহানি হলে আইন অনুযায়ী মানহানি মামলা হয় কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হতে পারে৷ কিন্তু আওয়ামী লীগ তো প্রতিষ্ঠান৷ এ মামলায় আওয়ামী লীগের মানহানি হলে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে পারতো৷ কিন্তু তা হয়নি৷ তিনি বলেন কিছু বিষয় আছে যেগুলো রাজনীতি ও সংবিধানের সাথে জড়িত৷ সেগুলো অনেক সময় আদালতে আসে জাতীয় স্বার্থে৷ কিন্তু ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রচার-পাল্টা প্রচার, কুৎসা-পাল্টা কুৎসা এগুলো তো আদালতে বয়ে আনার যুক্তি নেই৷ এসব বিষয়ে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স যারা করবেন তাদের শক্তভাবে এগুলো দেখা উচিত৷
দণ্ডপ্রাপ্ত তরুণের নাম আবদুল মুকিত ওরফে রাজু (২২)৷ তিনি রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে৷ ২০১৭ সালে মামলাটি করেছিলেন হরিপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বাদল৷ মুকিত হরিপুর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলে দাবি সাইদুর রহমানের৷ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ২৭ মে আবদুল মুকিত তার ফেসবুক আইডিতে আওয়ামী লীগকে ব্যঙ্গ করে বাবা ও ছেলের কথোপকথনের ঢঙে একটি কৌতুক পোস্ট করেন৷ সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী শব্দটি আইয়াম শব্দ থেকে এসেছে৷ যার অর্থ অন্ধকার, কুসংস্কার আর লীগ অর্থ দল৷ অর্থাৎ আওয়ামী লীগ মানে অন্ধকারের দল৷ সেখানে ইসলাম ও আওয়ামী শব্দটি নিয়ে সাংঘর্ষিক অবস্থানে এনে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বাদির৷ গত সোমবার সোমবার রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান একমাত্র অভিযুক্তের দণ্ড ঘোষণা করেন৷
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ইসমত আরা বেগম বলেন, ‘‘আদালত যেহেতু বিষয়টি আমলে নিয়েছেন এবং আমরা ছেলেটির অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি তাই তার শাস্তি হয়েছে৷ আইসিটি এ্যাক্টে পরিস্কার উল্লেখ রয়েছে, কী করলে অপরাধ হবে৷ এখানে অপরাধ প্রমাণিত৷ আওয়ামী লীগের যে কোন কর্মী সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলাটি করতে পারেন৷ এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে বাদি এই মামলাটি করেছেন৷ এটি না হলে তখন বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা ছিল৷ কারণ আওয়ামী লীগকে এভাবে বিকৃত করে বর্ণনা করায় সবাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন৷”
এখনও মামলাটিই মানতে পারছেন না মুকিতের পরিবার৷ তার বোন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবা খাতুন বলেন, ‘‘আমার ভাই তখন কেবল এসএসসি পাশ করে এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছে৷ তখন তার কোন এন্ড্রোয়েড ফোন ছিল না৷ এই পোস্টটিও সে দেয়নি৷ এই মামলাটি যিনি করেছেন সেই সাইদুর রহমান বাদলের সঙ্গে আমার দাদা মরহুম আমজাদ আলীর ২০০০ সালে গরুর ঘাটের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল৷ তখন তিনজন খুনও হন৷ পরে আমরা ওই এলাকা ছেড়েই চলে আসি৷ এখনও তিনি আমাদের পেছনে পড়ে আছেন৷ আমরা ভাই-বোনেরা শিক্ষিত হচ্ছি এটা তিনি কোনভাবেই মানতে পারছেন না৷ পুরোপুরি ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই তিনি মামলাটি করেছেন৷”
সাইদুর রহমান বাদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘শাস্তি হওয়ার পর তারা এখন উল্টোপাল্টা বলছে৷ তাদের সঙ্গে আমার কোন বিরোধ ছিল না, এখনও নেই৷ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমি সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেছি৷ বিচারক তো সবকিছু শুনেছেন, এরপরই তো তিনি আদেশ দিয়েছেন৷”
আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মিজামুল ইসলাম৷ তিনি বলেন, আমরা দু’টি বিষয় আদালতের নজরে এনেছিলাম৷ এক. যে ডিভাইস দিয়ে এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে সেটার কোন পরীক্ষা করা হয়নি৷ সে ডিভাইসও পাওয়া যায়নি৷ দুই. কৌতুকের কারণে একটি দলের মানহানির সুযোগ নেই৷ এটা ব্যক্তির স্বাধীনতা৷ প্রতিদিনই রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলছেন৷ সেটা যদি অপরাধ না হয়, তাহলে এটা কেন অপরাধ হবে? কিন্তু বিচারক আমাদের যুক্তি আমলে নেননি৷ ফলে আমরা উচ্চ আদালতে সুবিচার পাব বলে আশা করি৷
এই মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে একটি জায়গায় বিচারক বলেছেন, কৌতুকের নামে যে পোস্ট করা হয়েছে, সেই পোস্টের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করা হয়েছে৷ ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়ানো হয়েছে, ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টে উসকানি দেওয়া হয়েছে৷ পোস্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া পাপ, এটা গজবের নাম৷ ইসলামের নামে গল্প ফেঁদে পোস্টদাতা ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়েছেন৷ তারপর বলছেন, আওয়ামী শব্দটি এসেছে আইয়াম শব্দ থেকে৷ যার অর্থ বলা হয়েছে অন্ধকার, কুসংস্কার৷ বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ মানে অন্ধকারের দল৷ কিন্তু তথ্যমতে, উর্দু আওয়াম শব্দ থেকে আওয়ামী লীগ শব্দটি এসেছে৷ আর উর্দু আওয়াম শব্দের অর্থ জনতা৷ পোস্টদাতা এখানে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন৷
সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক বলছেন, ‘‘ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা কিংবা বিরূপ সমালোচনাকে ফৌজদারি আইনে অপরাধ হিসেবে দেখাটা সভ্য দেশগুলোতে ২০০ বছর আগেই উঠে গেছে৷ বাংলাদেশে এগুলো আদালতে আনা হচ্ছে কারণ এতে করে অন্যরা সমালোচনা করতে ভয় পাবে৷ বহু আলোচিত ৫৭ ধারার পর এগুলো বেশি করে আসছে আর এটি করা হচ্ছে কারণ এখন যে কোন ব্যক্তি যে কোন ব্যাপারে মন্তব্য করতে ভয় পাবে৷ গত ১৫-২০ বছর ধরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হচ্ছে৷ আগে তারা যতটা স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারতেন, আমার মনে হয় এখন তারা ততটা স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারেন না৷ আমরাও তো আগে যেভাবে স্বাধীনভাবে কথা বলতাম, এখন তো রাখঢাক করেই কথা বলি৷ এটা শুধু বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে না, সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে৷ বিচার বিভাগও এর বাইরে নয়৷”

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran