1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

চট্টগ্রামে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ, শীর্ষে চীন

  • Update Time : শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০২২
  • ৩৩ Time View

বন্দর নগর চট্টগ্রামে আমদানি-রপ্তানির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগের সংখ্যাও। করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতেই চট্টগ্রামে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা। চায়না, কোরিয়া, জার্মানি, সৌদি আরব ও ভারত থেকে বিনিয়োগ আসছে চট্টগ্রামে। তবে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ চীনের। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কারণে স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, দক্ষিণ খুলশী, উত্তর খুলশী, এম এম আলী রোড, নাসিরাবাদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও ভাটিয়ারীতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একক অথবা যৌথভাবে বিনিয়োগ করছে বিদেশিরা। নির্মাণ খাত, পোল্ট্রি ও হ্যাচারী খাত, বিটুমিন, শিপিং এণ্ড লজিস্টিক, রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল, ফুটওয়্যার, ফ্লুইড তৈরি ও মেটাল রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগ করেছে চায়না, ভারত, জার্মানি, সৌদি আরব ও কোরিয়ার মত পাঁচ দেশ। তবে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আসছে চায়না থেকে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড (বিডা) সূত্রে জানা যায়, গত বছরে জুনের দিকে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় সিএসটিটি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড নামের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন লি জিয়াং নামে চীনা ব্যবসায়ী, একই মাসে শিপিং ও লজিস্টিক খাতে দক্ষিণ খুলশী এলাকার ক্লিও শিপিং এণ্ড লজিস্টিকে ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন চেন জি নামে আরেক চীনা ব্যবসায়ী। এছাড়া চায়না ব্যবসায়ী জেং সিধা দেওয়ানহাট এলাকার হং দি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। অক্টোবরে উত্তর খুলশীর সানফ্লাওয়ার ইন চিটাগং লিমিটেডে রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল খাতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন গাও গোলিন, এপ্রিলে আগ্রাবাদের তিয়ানজিন হায়িং হার্বার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে ডেভেলপার নির্মাণখাতে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন উ ইংকিয়াং ও ডিসেম্বরে ভাটিয়ারী এলাকার জিয়াং চেং সুজ কো. (বাংলাদেশ) লিমিটেডে উ ইংকিয়াং ৯ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন।
অন্যদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পোল্ট্রি ও হ্যাচারী খাতে নগরের আগ্রাবাদ এলাকার সৌদি চিটাগং (প্রা.) লিমিটেডে সৌদি আরব থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিনিয়োগ করেন ভারত মন্ডলোই। এম এম আলী রোড এলাকার এভাড বিটুমিন সল্যুশান লিমিটেডে বিটুমিন খাতে মার্চ মাসে জার্মানি থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন ওয়াহেদ ফায়াজ ও শামসুল ইসলামী, নাসিরাবাদ এলাকার পলি হোস বাংলাদেশ লিমিটেডে ফ্লুইড কনভেইয়্যান্স খাতে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ভারত থেকে ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে পলি হোস (প্রা.) লিমিটেডে নামে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় গত বছরের জুন মাসে সপেল বিডি লিমিটেডে মেটাল রিসাইক্লিং খাতে কোরিয়া থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন কোরিয়ান ব্যবসায়ী জি উইম কিম।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যে ভাটা পড়েছিল। স্বাভাবিক পরিস্থিতি, নিরাপদ ও লাভজনক হওয়ায় বর্তমান সময়ে চট্টগ্রামে বিভিন্ন খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের হার বাড়ছে। যদিও ডলারের তারতম্যের উপর বিনিয়োগ করা অর্থ বাড়ে কমে। তার উপর রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিরও প্রভাব তো আছেই। তবুও পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে সামনে বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নঈম উদ্দিন হাছান আওরঙ্গজেব চৌধুরী বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তিনভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশে ব্যবসা করে অর্জিত মুনাফা বিদেশে না নিয়ে পুনঃবিনিয়োগ করে, মূলধন হিসেবে নগদ বা শিল্পের যন্ত্রপাতি হিসাবে এবং এক কোম্পানি অন্য কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে চট্টগ্রামে ইকোনমিক জোনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। করোনার মধ্যে অনেক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গেছে। তাই দেশি, বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়লে প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের হারও বাড়বে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, করোনার কারণে চট্টগ্রামে বৈদেশিক বিনিয়োগের হার কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমাদের দেশে বিনিয়োগ এখন নিরাপদ ও লাভজনক। চায়না, কোরিয়া, সৌদি আরব, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। চলতি অর্থবছরে আগের তুলনায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের হার বেড়েছে। আশা করছি চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের হার আরো বাড়বে। সে সঙ্গে কর্মসংস্থানের হার আরো বাড়বে বলে আশা করছি।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran