1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

এসপির ভাব নিয়ে পুলিশের গাড়িতে চক্কর দিতেন সেই রাসেল

  • Update Time : সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২
  • ১৪৬ Time View

 

‘পুলিশ আমি নিয়ন্ত্রণ করি। তুমি তাদের হাতে ধরা পড়লেও তারা তোমাকে কিছু করতে পারবে না। আমি পুলিশ সামলে নেব। কিন্তু তুমি র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লে তোমার সর্বনাশ হয়ে যাবে। সাবধান আবার বলছি, র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লে তোমার সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কক্সবাজারে আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা আশিকুল ইসলাম আশিককে এভাবে সাবধান করে আত্মগোপনে থাকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন রাসেল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। যদিও ২৬ ডিসেম্বর রাতে পরবর্তী র‌্যাবের হাতেই ধরা পড়েছেন আশিক। তাকে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

দেশব্যাপী আলোচিত এ ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতাকে আত্মগোপনে থাকার নির্দেশনা ও পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের তথ্য-প্রমাণ পেয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর রাসেল উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যায়। রাসেলের বিরুদ্ধে পুলিশ নাম ভাঙিয়ে ইয়াবার ব্যবসা ও পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এদিকে রহস্যজনক কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাসেল উদ্দিনকে খুঁজে না পেলেও এবার কক্সবাজারে আরেকটি আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডে সেই রাসেল হাজির হয়েছেন পুলিশ অফিসার পরিচয়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৪ মার্চ দুপুরে কক্সবাজার আদালতে থেকে এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে দাবি করে মামলা করে এক নারী। মামলাটি মঙ্গলবার নথিভুক্ত হয়েছে। এ মামলায় রাসেল উদ্দিনকে ২নং আসামি করা হয়েছে।

ভিকটিম এজাহারে দাবি করেছেন- পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাসেল তাকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মাদক পাচার মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে রাসেলও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

এদিকে রাসেলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে পিলে চমকানো তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, স্বামী-সন্তান জিম্মি করে কক্সবাজারে এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা আশিক, মেহেদী হাসান বাবুদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষক হলেন এই রাসেল উদ্দিন। রাসেলের অধীনে পর্যটন শহরে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী, পর্যটকদের ছিনতাই, ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজ ও দখলবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। গড়ে তুলেছেন একটি ভুয়া পুলিশ বাহিনীও। তারা সুযোগ পেলেই রাতে রাসেল নিয়ন্ত্রিত একটি হোটেলে পর্যটকদের জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ আছে, কক্সবাজারের বেশিরভাগ পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় রাসেল গংদের আইনের আওতায় আনা তো দূরের কথা উল্টো বিভিন্ন সময় এসপির ভাব নিয়ে পুলিশের গাড়িতে চক্কর দিতে দেন রাসেল। পুলিশের গাড়িতে চক্করের সঙ্গী হন কক্সবাজারে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরাও। ডকুমেন্ট হিসেবে পুলিশের গাড়ি চক্কর দেওয়ার বেশ কয়েকটি ছবি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে নিয়মিত একান্ত বৈঠক, এমনকি জুম মিটিং করেন নিয়মিত! পরে রাসেল নিজে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এসব ছবি পোস্ট করেন।

রাসেল উদ্দিন কক্সবাজার ঈদগাঁও উপজেলার পোকখালী সিকদার পাড়ার লোদা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নানা অপকর্মের কারণে স্থানীয়দের তোপের মুখে প্রায় ১০ বছর আগে এলাকা ছেড়ে কক্সবাজারে গিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টে অবস্থিত এপার্টমেন্ট হোটেল-আলফা ওয়েবে পিয়নের চাকরি নেন। পরবর্তী ওই হোটেলের ম্যানেজার করা হয় রাসেলকে।

হোটেল-আলফা-ওয়েবের কয়েকজন ফ্ল্যাটের মালিক অভিযোগ করে বলেন, রাসেল ম্যানেজার হওয়ার পর সেখানে ৮০১নং ফ্ল্যাটে প্রতি রাতে মাদক ও তরুণীদের নিয়ে পার্টির আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রতি রাতেই কতিপয় পুলিশ অফিসার ও কক্সবাজারের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আসেন।

অভিযোগ রয়েছে, এভাবে পুলিশ সন্ত্রাসীদের হাতে নিয়ে তাদের সহযোগিতায় গত কয়েক বছর আগে হোটেলটির বেশিরভাগ ফ্ল্যাট দখল করে নেন রাসেল। কয়েকজন মালিকও তাদের প্রতিনিধিদের পুলিশ দিয়ে নির্যাতনের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে হোটেল ও দেশ ছাড়া করেছেন বলে দাবি করেন তারা।

মালিকদের দাবি, রাসেল হোটেল ৩ হাজার ৬শ স্কয়ার ফিটের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট ৮০১, ৮০২, ৮০৩ প্রথমে দখল করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে সুইমিংপুলসহ আরও ১২টি ফ্ল্যাট দখল করে নেন। এসব ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকার বেশি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মালিক রাসেলের নির্যাতন ও ফ্ল্যাট বেদখল হওয়ায় হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাপার্টমেন্টের একজন মালিক জানান, ৮০১নং ফ্ল্যাটে একটি কক্ষে নিয়মিত ৫ থেকে ৭ জন সুন্দরী রাখা হয়। তারা পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের সেবার পাশাপাশি সেখানে নিয়মিত পর্যটকদের মাদক বিক্রি করেন এবং সেবন করান। পরে মোটা অংকের টাকা দিতে না চাইলে পুলিশ পরিচয়ে কোমরে পিস্তল নিয়ে সেখানে হাজির হন রাসেল ও আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডের মূলহোতা আশিকসহ আরও কয়েকজন। এরপর নারী ও ইয়াবা দিয়ে পর্যটকের ছবি তোলা হয়। ৮০১ নম্বরের আরেকটি কক্ষে নিয়ে টর্চার করা হয়। মোটা অঙ্কের টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বন্দি করে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশ অফিসারও তাদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ তার।

রাসেল বাহিনীর হাত থেকে মুক্তির পর ভুক্তভোগী পর্যটকরা নোংরা ছবি তুলে রাখায় ও পুলিশ ভেবে ভয়ে থানায় আর কেউ অভিযোগ করেন না বলে জানান তিনি।

ফ্ল্যাট মালিকদের অভিযোগ প্রতিমাসে তার অর্ধ লাখ বিদ্যুৎ বিল আসলে ও রাসেলের দাবি মতো তিন থেকে চার লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে বাধ্য করা হয় তাদের। লাখ টাকা সার্ভিস চার্জও আদায় করেন।

আত্মগোপনে যাওয়ার আগে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রাসেল অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে একটি স্থানীয় পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বলে দাবি করেন।

এদিকে একটি সূত্র দাবি করেছে, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ধর্ষক আশিককে বাঁচাতে কোটি টাকা খরচ করেছেন রাসেল। মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রথমে মোটা অংকের প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।  সূত্রঃ যুগান্তর

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran