1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

কারফিউ জারির পর শ্রীলঙ্কায় সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ

  • Update Time : রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২২
  • ৬১ Time View

শ্রীলঙ্কায় এবার কারফিউ ঘোষণা করল দেশের সরকার। প্রাথমিকভাবে টানা ৩৬ ঘণ্টা কারফিউ কার্যকর থাকবে। একইসঙ্গে, দেশেজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, দেশজুড়ে তৈরি হওয়া খাদ্যসংকট এবং জ্বালানির অপ্রতুলতার বিরোধিতায় যে প্রতিবাদ চলছে, তার জেরেই এই পদক্ষেপ করেছে সরকার।
ইতোমধ্য়েই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। তাতে রাস্তা, পার্ক, সৈকতে আমজনতার যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নাগরিকরা গণপরিবহণও ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে, বিশেষ ক্ষেত্রে লিখিত অনুমতি নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোনো যাবে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে দেশে কার্ফু জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতোমধ্যেই টুইটার, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেগুলি ব্লক করে দেয়া হয়েছে। এমনকী, শ্রীলঙ্কায় হোয়াটসঅ্য়াপও কাজ করছে না। হোয়াটসঅ্যাপ করতে গেলেই একটি মেসেজ ভেসে উঠছে। তাতে বলা হচ্ছে ‘টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের নির্দেশি অনুসারে’!
প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় বেশ কিছু সময় ধরেই আর্থিক মন্দার পরিস্থিতি চলছে। গত কয়েক দিনে সংকট চরমে উঠেছে। ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি তুলে সরব হয়েছেন নাগরিকরা। প্রেসিডেন্টের বাড়ির সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সেই বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এমন ঘটনা যাতে ফের না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার জন্যই একাধিক বিষয়ে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে রাস্তায় নামানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে, প্রয়োজন হলে যে কাউকেই তারা গ্রেফতার করতে পারবে। এর জন্য কোনও ওয়ারেন্ট লাগবে না! এককথায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সামলাতে সোজাসুজি দমন-পীড়নের রাস্তায় হাঁটছে শ্রীলঙ্কার সরকার।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, শ্রীলঙ্কার আয়ের প্রধান উৎস হল পর্যটন। কিন্তু, করোনাকালে তা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, আয়ের অন্যান্য় উপায়গুলিও বন্ধ হয়েছে। ফলে দেশের ভাঁড়ারে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় তলানিতে ঠেকেছে। এদিকে, খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি, নিত্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ সামগ্রীই শ্রীলঙ্কাকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। কিন্তু, বিদেশি মুদ্রা হাতে না থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দেশে খাদ্যসঙ্কট ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। মিলছে না জ্বালানি। ফলে দেশজুড়ে চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ধৈর্য্য়ের বাঁধ ভাঙছে আমজনতার। বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে তাঁদের। যদিও প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সরকারের দাবি, এইসব বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে বিচ্ছিন্নতাবাদীজের উস্কানি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের বাড়ির বাইরের যে বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে প্রতিবাদীদের দাবি, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু, পুলিশ সেখানে পৌঁছতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশ কাঁদানে গ্য়াসের সেল ফাটায়, বিক্ষোভকারীদের মারতে শুরু করে, তাঁদের উপর জলকামান প্রয়োগ করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরাও পালটা মারমুখী হয়ে পড়েন।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran