1. samudrakantha@gmail.com : সম্পাদক : সম্পাদক ও প্রকাশক
  2. aimrashed20@gmail.com : Amirul Islam Rashed : Amirul Islam Rashed

ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গা: পেছনে কারা?

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫৪ Time View

জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই ক্যাম্পের মধ্যে থাকতে চাচ্ছে না। প্রতিদিনই ‘কাজের সন্ধানে’ বেরিয়ে যাচ্ছে শত শত রোহিঙ্গা। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত দুইদিনে টেকনাফ ও উখিয়া থানা পুলিশ ২৬৬ রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পের বাইরে থেকে আটক করেছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গ বসবাস করছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর অব্যাহত হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের দেখাশোনা করে তাকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন।
সবগুলো ক্যাম্পে একজন করে ক্যাম্প ইনচার্জ হিসেবে দেয়া হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে। পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য ৩টি আরও পুলিশ ব্যাটেলিয়ান নিযুক্ত করা হয় ক্যাম্পগুলোতে।‌ কিন্তু তারপরেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা নানাভাবে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে শ্রম বাজারে তাদের শ্রম বিক্রি করছে।
কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্প থেকে শত শত রোহিঙ্গা লোকালয়ে এসে বাংলাদেশি মানুষদের সাথে মিশে যাচ্ছে। এখানে মাটি কাটার কাজ, রিকসা, টমটম, সিএনজি, মাছ ধরা ট্রলারের শ্রমিকের কাজে জড়িয়ে পড়ছে এসব রোহিঙ্গারা।’
‘‘ক্যাম্প থেকে বের হয়ে রোহিঙ্গারা নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়লে ও তাদের কোনো পরিচয়পত্র বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকায় অপরাধ সংঘটনের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব যায় না।’’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পর আবার বাইরে এসেও টাকা রোজগার করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন সদস্যদের কাজ কি? কক্সবাজারবাসী তা জানতে চায়। এপিবিএন সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণের নামে রোহিঙ্গাদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করে।’
এপিবিএন সদস্যদের কড়া প্রহরার মাঝে কীভাবে রোহিঙ্গারা বাইরে আসে- এমন প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘এই রোহিঙ্গারা বাইরে আসার পেছনে কাদের হাত রয়েছে তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন। তা না হলে দেশের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান পিপিএম জানান, রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বাংলাদেশিদের সাথে মিশে যেতে না পারে সেজন্য উখিয়া ও টেকনাফে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিদিন চেক করা হচ্ছে। মঙ্গলবার কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন তল্লাশি করে টেকনাফ থানা পুলিশ ৫০ জন এবং উখিয়া থানা পুলিশ ৮০ জন জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।
এর আগে সোমবার উখিয়া থানা পুলিশ একইভাবে তল্লাশি চালিয়ে ১৩৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। পরে তাদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ট্রানজিট ক্যাম্প পাঠিয়ে দেয়া হয়।
ক্যাম্প থেকে নানা কৌশলে বের হয়ে পড়ায় এসব রোহিঙ্গাদের ধরার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

Share on your Facebook

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News .....

© All rights reserved Samudrakantha © 2019

Site Customized By Shahi Kamran